Subscribe:

জেনে নিন ব্রেন টিউমার কি ? কেন হয় ও কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি


টিউমার হচ্ছে শরীরের যে কোনো জায়গায় বা অঙ্গে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এবং এই টিউমারটি যখন ব্রেনের ভেতরে হয় তখন সেটাকে আমরা বলি ব্রেন টিউমার।
এর লক্ষণগুলো:- ব্রেন টিউমারের লক্ষণ একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়ার এই তিনটিকে আমরা সব টিউমারের ক্ষেত্রে ধরতে পারি।
এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন: রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে।
অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা ব্রেন টিউমারের রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।
ব্রেন টিউমার কেন হয়:- ব্রেন টিউমারের কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। খারাপ টিউমার শরীরের অন্য জায়গা থেকে ক্যান্সারের রূপ নিয়ে ব্রেনের মধ্যে চলে যায়। বংশগত কারণেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।
কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি? বাংলাদেশে এর প্রকোপ কেমন:- কিছু টিউমার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়।
মহিলাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউমারটি একেক রকমভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।
এক কথায় বলতে পারি, যে কোনো বয়সের, যে কোনো পুরুষ বা মহিলার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে।
এটা সত্যি দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে ক্রমশ আমরা এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।
ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব:- ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য।
কিছু কিছু টিউমার আছে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়। আর কিছু আছে যা থেকে আপৎ হতে পারে।
ব্রেন টিউমার কীভাবে চিহ্নিত করা হয়? এর জন্য কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়:- যে কোনো রোগ নির্ণয়ের প্রথম পদ্ধতিই হচ্ছে তাকে ক্লিনিকে আনা, পর্যবেক্ষণে রাখা।
রোগীর বিশেষ শারীরিক পরীক্ষা করা যেটাকে আমরা বলি নিউরোলজিক্যাল বিশ্লেষণ। রোগীর বর্ণনা থেকে এবং রোগের লক্ষণ দেখে ধারণা করা যায়।
মাথার নরমাল প্লেন এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা কিছু ধারণা করতে পারি কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়। পদ্ধতি হচ্ছে সিটি-স্ক্যান এবং আরও ভালো হচ্ছে এম.আর.আই।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর পরিণতি কী:- সাধারণভাবে আমরা টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করি। ১. ভালো টিউমার, ২. খারাপ টিউমার।
ভালো টিউমার যদি সঠিকভাবে অপারেশন করে সম্পূর্ণ বের করা যায় তাহলে রোগী স¤পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। আর যদি ক্যান্সার টিউমার হয় তবে তারও রকমবেদ আছে।
কিছু কিছু খারাপ টিউমার আছে যা হলে রোগী কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে পারে। আর কিছু কিছু টিউমার আছে যা এতই খারাপ যে, রোগী ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি বেঁচে থাকে না।
ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়:- যে কোনো টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে সার্জারি বা অপারেশন। অপারেশন করে রোগীর টিউমারকে বের করে, বায়োপসি করে প্রকৃতি নির্ণয় করে পরবর্তী চিকিৎসা করা হয়। তবে এখন হোমিও ট্রিটমেন্টও এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে।
কী কী ধরনের মুখে খাওয়ার ওষুধ আছে:- ব্রেন টিউমারে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয় তবে রোগের লক্ষণগুলোর চিকিৎসা ওষুধ দ্বারা করা সম্ভব।
টিউমারের জন্য যেসব লক্ষণ যেমন মাথাব্যথা ও বমি হওয়া এইসব লক্ষণের চিকিৎসায় আমরা ওষুধ দিয়ে করতে পারব। তাও সাময়িকভাবে।
টিউমার যখন আস্তে আস্তে বড় হবে টিউমারের লক্ষণগুলো আরও বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়বে; যার ফলে ওষুধ দিয়ে শুধু সাময়িকভাবে তার লক্ষণগুলোকে কিছুদিন কমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু ওষুধের চিকিৎসা টিউমারের জন্য নয়।
অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা:- অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেনটা খুলে ব্রেনের যে লোকেশনে টিউমারটা আছে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে টিউমারটাকে সরিয়ে আনা হয়।
ক্যান্সার টিউমারের ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু সম্ভব বের করে দিই। যতখানি বের করা যায় রোগীর উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে ব্রেন টিউমার বের করার জন্য মগজ বা ব্রেন খুলতে হয় না। রেডিও সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছোট টিউমার যেমন – ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির ছোট যেগুলো হয় সেগুলো ছোট বা নষ্ট করে দেয়া হয়।
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় রঞ্জনরশ্মির ভূমিকা:- রঞ্জন-রশ্মি টিউমারটিকে আপাত ছোট করে দেয় বা টিউমারের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর রঞ্জনরশ্মি বলতে আমরা বুঝি অপারেশন করার পর রেডিওথেরাপি দেয়াকে।
যা আমরা দিই অপারেশন করার পর যদি দেখা যায় যে টিউমারি ক্যান্সার টিউমার বা খারাপ টিউমার। সে ক্ষেত্রে রোগীকে আগে থেকেই বলে দেয়া হয় সার্জারি করলে সম্পূর্ণভাবে এটি ভালো হবে না এবং অপারেশন করার পরেও রঞ্জনরশ্মি বা রেডিওথেরাপি মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
টিউমারটি বের করে দেয়ার পর ওই এলাকায় রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যেন টিউমারটির ক্ষমতা কমে যায়।
আমাদের দেশে বর্তমানে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা:- বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে এবং অধিকাংশ টিউমারের চিকিৎসা বাংলাদেশে করা সম্ভব।
বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে নিউরো সার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জারি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যদিও কিছু কিছু আধুনিক ব্যবস্থা এখানো আমাদের দেশে আসেনি। যেমন- রেডিওসার্জারি আমাদের নেই, গামা-নাইফ সার্জারি নেই। বাকি যেগুলো আছে সেগুলোতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি।
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থা :- সার্বিকভাবে বলতে গেলে এখনো অনেক লোকজন আসলে জানে না যে, বাংলাদেশে কী কী নিউরোসার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জার হয়।
এমনকি আমাদের অনেক চিকিৎসকেরও ভুল ধারণা আছে। বাংলাদেশে ভালো ভালো ব্রেন টিউমারের সার্জারি হচ্ছে এটা যেমন জানতে হবে তেমনই রোগীদেরও জানাতে হবে আমাদের দেশে সব ধরনের সার্জারি সম্ভব।
বাংলাদেশে এখন অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো সার্জারি হচ্ছে এবং সফলতার হার অনেক বেড়েছে।
উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা কতটুকু:- উন্নত বিশ্ব বলতে আমাদের পাশের দেশও প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বলতে পারেন। ভারতে যেমন- রেডিওসার্জারি, গামা-নাইফ সার্জারি আছে যা আমাদের দেশে এখানা শুরু হয়নি।
হয়ত বেশিদিন লাগবে না শুরু করতে। এই দুটি দিক ছাড়া বাকি সব সার্জারি আমাদের এখন দেশেই সম্ভব। এই সব সার্জারি আশপাশের দেশের তুলনায় মনে হয় ভালোই হয়।
হয়ত আমরা এখন যে অপারেশন করি সেটা ৫ বছর আগে সম্ভব ছিল না। এগুলো এখন হচ্ছে এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তিগুলো আমাদের দেশে আসছে ।
‘খরচ খুব বেশি’ রোগীদের এই ধারণাটা পরিষ্কার নয়, যখন মনে করবে যে এই সার্জারি বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ভালো হচ্ছে তখন রোগী স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে।

মাত্র ১০ হাজার টাকায় হেলিকপ্টারে ভ্রমন করা যায়; জেনে নিন কোথায় পাবেন?


তরুণ ব্যবসায়ী আরিয়ান আহমেদ তার নববধূ তানিয়া আহমেদের ২৫তম জন্মদিনে চমকে দেওয়ার জন্য একটু ভিন্ন আয়োজন করলেন। জন্মদিনের সকালে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে চলে গেলেন। সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষায় ছিল একটি হেলিকপ্টার; যার সামনে লেখা ‘হ্যাপি বার্থডে তানিয়া’। এর পরের ১০ মিনিট যেন ঘোরেই কেটে গেল তানিয়া-আরিয়ান দম্পতির। হেলিকপ্টার তাদের নামিয়ে দিল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। আর ১০ মিনিটের এই হেলিকপ্টারের আনন্দ ভ্রমণের জন্য তাদের খরচ হলো মাত্র ১০ হাজার টাকা।
 একসময় শুধু উচ্চবিত্তরা দ্রুত গন্তব্যে যেতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন প্রয়োজন ছাড়াও আনন্দ ভ্রমণের জন্য অনেকে এ বাহনটি ব্যবহার করছেন। ফলে মধ্যবিত্তের হেলিকপ্টারে আকাশে বেড়ানোর স্বপ্ন এখন বাস্তব ঘটনা।
সাধারণত ঘণ্টাব্যাপী রিজার্ভ হেলিকপ্টারের ভাড়া ১ লাখের কম নয়। কিন্তু প্রিয়জনকে নিয়ে কেউ চাইলে ঢাকার কাছাকাছি থেকে আধ ঘণ্টার মধ্যে কোথাও ঘুরে আসতে মাত্র ১০ হাজার টাকায়ই এ স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
হেলিকপ্টার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা জানান, যানজটের ঝামেলা এড়াতে এবং দ্রুত ঢাকার বাইরে মিটিংয়ে যেতে অনেক ব্যবসায়ী এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা সেলিব্রেটিরাও ঢাকার বাইরে যেতে বেছে নেন হেলিকপ্টার। শুটিংয়ের কাজে তারকারা প্রায়ই হেলিকপ্টারে কক্সবাজার, গাজীপুর যাতায়াত করছেন। এ ছাড়া গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা ঢাকার বাইরে গাজীপুর ও চট্টগ্রামে বিদেশি ক্রেতাদের নিয়ে কারখানা ভ্রমণের জন্য হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফ্লাই হেলিকপ্টার বিডির সিইও এম আর হক বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যাত্রীরা আধ ঘণ্টার জন্য নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে মাত্র ১০ হাজার টাকায় হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।
তিনি জানান, সপ্তাহে কখনো পরপর দু-তিন বার তারা ফ্লাই করেন। আবার অনেকে রিজার্ভে ঘোরেন। তিনি বলেন, মূলত তাদের মূল টার্গেট মধ্যবিত্ত শ্রেণির যাত্রী।
হেলিকপ্টার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা আরও জানান, সাধারণত বিয়ে বাড়ির বরযাত্রী, ভিআইপি যাত্রী বহনে হেলিকপ্টারের রিজার্ভ বেশি হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানো, লিফলেট বিতরণ, রোগী বহন, শুটিং, বাণিজ্যিক কাজে ঢাকার বাইরে গমন, লাশ বহনসহ বিভিন্ন কাজে এখন হেলিকপ্টারের ব্যবহার হচ্ছে। তবে হেলিকপ্টারের ব্যবসা বৃদ্ধি পেলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ বেশ ব্যয়বহুল।
তারা জানান, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাদের হেলিকপ্টার ওড়াতে হয়। শুধু এই বিমানবন্দর থেকে ওড়ানোর অনুমতি থাকায় তারা প্রায়ই ঝামেলায় পড়েন। এয়ারফোর্সের প্রশিক্ষণ থাকাকালে তারা হেলিকপ্টার ওড়াতে পারেন না। এ ছাড়া ভিআইপি এলে তাদের অপেক্ষা করতে হয়। এজন্য হেলিকপ্টারের জন্য আলাদা একটি হেলিপ্যাড দাবি করেন তারা।
তারা জানান, সাধারণত প্রতিরক্ষাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হেলিকপ্টারের পাইলট হিসেবে কাজ করেন। আর জ্বালানি তেল, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলটসহ একটি হেলিকপ্টারের পেছনে মাসে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা খরচ হয়।
বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা যায়, দেশে হেলিকপ্টার ব্যবসার সঙ্গে বর্তমানে জড়িত ৯টি কোম্পানি। তাদের ১৮টি হেলিকপ্টার যাত্রী বহন করছে।
এর মধ্যে আছে বাংলা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস লিমিটেড। তাদের বেল-৪০৭ মডেলের হেলিকপ্টারে প্রতি ঘণ্টার ভ্রমণমূল্য ১ লাখ টাকা আর রবিনসন আর-৪৪ মডেলের হেলিকপ্টারে প্রতি ঘণ্টার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। স্কয়ার এয়ার লিমিটেডের বেল-৪০৭ হেলিকপ্টারে প্রতি ঘণ্টার ভ্রমণমূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা আর রবিনসন আর-৬৬-এর প্রতি ঘণ্টার ভ্রমণমূল্য ৭৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করতে হবে।
সিকদার গ্রুপের বেল-৪০৭-এর ঘণ্টাপ্রতি ভ্রমণমূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, রবিনসন আর-৪-এর ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া হেলিকপ্টার ব্যবসার সঙ্গে আরও জড়িত আছে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস, ইমপ্রেস এভিয়েশন লিমিটেড, পারটেক্স এভিয়েশন, বিআরবি এয়ার লিমিটেড। প্রতিটি কোম্পানির নির্দিষ্ট ভ্রমণমূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষ এ যানগুলোয় ৩ থেকে ৬টি করে সিট থাকে।
বেবিচকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ব্যবসা শুরুর আগে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বেসরকারিভাবে হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য বেবিচকের কিছু নীতিমালা আছে। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেগুলো তদারকি করে বেবিচক। হেলিকপ্টার কোম্পানিগুলোকে এগুলো মেনে চলতে হয়। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিত করার ব্যবস্থা আছে।
নিয়ম অনুযায়ী হেলিকপ্টার আকাশে ওড়ার কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে বেবিচকের অনুমতি নিতে হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই ব্যবসার মধ্যে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করা উচিত। কারণ এগুলোর পর্যবেক্ষণে ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টর আছেন মাত্র একজন। বিশেষ করে ১৬ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ায় মেঘনা এভিয়েশনের আর সিক্স সিক্স হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর জানা যায় যে, হেলিকপ্টারটির সেই রুটে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। এ ছাড়া নজরদারির অভাবে বেশকিছু হেলিকপ্টার রাতে চালানোর অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও আইন ভঙ্গ করছে। এতে এই ব্যবসায় নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশে ১৯৯৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস।
২০০৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সেবা প্রদান করত। বর্তমানে লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

মৃত্যুর কয়েক সেকেন্ড পর মানুষের শরীরে যা ঘটে? জানলে অবাক হবেন !


মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো জীবন শেষ। মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক শঙ্কা কাজ করে স্বাভাবিকভাবেই; কিন্তু মৃত্যু ঘটবেই, একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও তাই নেই। মৃত্যুর পর নশ্বর দেহতে কিছু পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই।
জানলে অবাক হবেন, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার কিছুদিন পর্যন্ত হাতের নখ ও চুল বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়! এ তো গেল অন্য কথা, তবে আজীবন বয়ে বেড়ানো শরীর মৃত্যুর পর প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে যায় ধীরে ধীরে। মেন্টাল ফ্লস নামের একটি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর নশ্বর মানবদেহের পর্যায়ভিত্তিক পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
১. মৃত্যুর পর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঘটবে সেকেন্ডের ব্যবধানে।
২. শরীরের তাপমাত্রা শীতল হয়ে যাবে।
৩. অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলোর মৃত্যু ঘটতে আরম্ভ করবে। সে সঙ্গে কোষগুলোয় ভাঙন ধরবে, যা পচন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত চলবে। এটি ঘটবে মিনিটের ব্যবধানে।
৪. শরীর প্রসারিত হওয়ার কারণে পেশির মধ্যে
ক্যালসিয়াম তৈরি হতে থাকে। এটি ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এটি ঘটবে ঘণ্টার ব্যবধানে।
৫. পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়।
৬. ত্বক শুষ্ক, সংকুচিত দেখায়। এর কারণে চুল ও নখ বড় হয়ে যাবে বলে মনে হবে।
৭. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্তে টান পড়বে। এতে করে শরীরের চামড়ায় কালশিটে পড়া বা অনেকটা দাগের মতো দেখা যাবে।
৮. শরীরের এনজাইমগুলো নিজেদের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হজম করতে শুরু করে, প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটি ঘটবে দিনের ব্যবধানে।
৯. পচনশীল দেহের থেকে পিউট্রিসিন বা ক্যাডাভেরিন নামের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হবে।
১০. এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ শরীর খেয়ে ফেলতে থাকবে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ঘটতে শুরু করবে।
১১. শরীর বেগুনি থেকে কালো হয়ে যাবে, কারণ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে শরীরের বিয়োজন অব্যাহত থাকবে।
১২. চুল ঝরতে শুরু করে।
১৩. চার মাসের মধ্যে বাকি রইবে শুধু কঙ্কাল, বাকি সবটাই মিশে যাবে মাটির সাথে ।