Subscribe:
Showing posts with label হেলথ টিপস. Show all posts
Showing posts with label হেলথ টিপস. Show all posts

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবার, ব্যায়াম ও শরীর চর্চার বিকল্প নেই


শরীরের ইম্যিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাবার ও ব্যায়াম বা শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন ওষুধ ছাড়াই আপনি বাড়াতে পারেন আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর যাতে শরীরের ইম্যিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয় তার মধ্যে রয়েছে, মনখুলে হাসুন ও বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটান, গান শুনুন অথবা নিজেই দু’লাইন গাইতে চেষ্টা করুন, অধিক চর্বিযুক্ত খাবার ও অধিক চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন, বেশি করে মাছ খেতে চেষ্টা করুন, মাসরুম সমৃদ্ধ খাবার খেতে চেষ্টা করুন, অধিক পরিমাণ সাইট্রাস ফুড বা লেবু জাতীয় ফল আহার করুন, প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন, শরীরের যত্ন ও বিশ্রাম নিন, অ্যালমন্ড জাতীয় ফল বেশি খান, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি পান ও ব্যবহার পরিহার করুন, প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ভেজ ডায়েট বা শাক-সবজি আহার করুন।
বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন, আপনি যদি ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খানিকটা সময় কাটান, দুষ্টুমি করেন, হাসি-ঠাট্টা করেন তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্য দরকারি এন্টিবডি ও শ্বেত কণিকা বৃদ্ধি পায় যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধ করে। অধিক চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার এবং ফ্রেন্ডলি ফ্যাট যেমন: ফিসফ্যাট, ওমেগা-৩ ইত্যাদি আহারে প্রস্ট্যাগ্লান্ডিন হরমোন বাড়ায়। ফলে শক্তিশালী হয় ইম্যিউন সিস্টেম। অধিক পরিমাণ সাইট্রাস ফুড আহারে রক্তের ফ্যাগোসাইট নামক উপাদানের বৃদ্ধি ঘটে যা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। সাইট্রাস ফুডের মধ্যে রয়েছে, কমলা, লেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি। মার্কিন গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য ঠাণ্ডা পানি কম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাদের কমন কোল্ড বা ঠাণ্ডা সমস্যা বেশি থাকে তাদের শরীরের ইম্যিউন সিস্টেম দুর্বল থাকে। তাই যাতে সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা কম লাগে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
.
লেখক : ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম, চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

বুদ্ধিমান’ সন্তানের মা হতে গেলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা


সকলেই চান তাঁর সন্তান যেন সুস্থ ও বুদ্ধিমান হয়। কিন্ত, একটি শিশুর ‘ইনটেলিজেন্ট’ হওয়া বা না-হওয়া অনেকটাই নির্ভর করে তার জিন-এর উপর।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রত্নাবলী ঘোষের কথা অনুসারে— একটি শিশু যে জিন নিয়ে জন্মায়, সেটাই তার বুদ্ধিমত্তা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যের মূল কারণ হয়। কিন্তু, নতুন গবেষণা বলছে, একটি শিশুর ‘আইকিউ লেভেল’ মাত্র ৫০% নির্ভর করে তার জিনের উপর। বাকিটার জন্য দায়ি থাকে তার পারিপার্শ্বিক।
কোন কোন কারণে আপনার শিশুটি বুদ্ধিমান হয়ে জন্মাবে, গবেষণায় উঠে আসা সেই কারণগুলি জেনে নিন—
১। পুষ্টিকর খাবার— শিশুর ‘ব্রেন ডেভলপমেন্ট’-এর জন্য ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খুবই জরুরি। তাই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক খাওয়া প্রয়োজনীয়। অন্যান্য শাক যাতে আয়রন রয়েছে, এমন শাকও শিশুর ব্রেনে অক্সিজেন সাপ্লাই করতে সাহায্য করে। আমন্ড ও ওয়ালনাটও খুবই প্রয়োজনীয়।
২। ফিট ও অ্যাক্টিভ— একসরসাইজ করলে শরীরে রক্তের প্রবাহ ভাল হয়, যা শিশুর বেড়ে ওঠায় সাহায্য করে। রিসার্চ বলছে, মা শারীরিক কসরত করলে, গর্ভের সন্তানের ব্রেনে নিউরনের মাত্রা বেড়ে যায় প্রায় ৪০%। এটি মানুষের মনে রাখার শক্তি বহন করে।
৩। কথা বলুন গর্ভস্থ সন্তানের সঙ্গে— অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একই গান বা কবিতা যদি বারবার শোনা যায়, রিসার্চ বলছে, জন্মের পরে সেই গান বা কবিতা শুনলে শিশুটি চিনতে পারে। রত্নাবলী ঘোষ বলছেন গর্ভস্থ সন্তানের সঙ্গে কথাও বলতে।
৪। হাল্কা মাসাজ— রিসার্চ বলছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ২০ সপ্তাহ থেকেই মায়ের পেটের উপর হাত রাখলে, শিশুটি তা বুঝতে পারে। রিসার্চে এমনও তথ্য বলা হয়েছে যে, শিশুটি বাবা বা মায়ের স্পর্শও বুঝতে পারে। তাই পেটের উপর আমন্ড ওয়েলের মাসাজ খুবই উপকারি।
৫। গল্প সেশন— অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার তিন মাস পর থেকেই গর্ভের সন্তানটির আওয়াজ বা শব্দ মনে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, জানাচ্ছেন প্যারেন্টিং এক্সপার্ট পলি সেনগুপ্ত। তাঁর মতে, মা বা বাবা যদি লাগাতার ছোটদের কোনও গল্প জোরে জোরে পড়ে, সে ক্ষেত্রে শিশুটির ব্রেন সেই শব্দগুলি মনে রাখে।

বাঁচতে চাইলে মেনু থেকে এখনই বাদ দিন তেলাপিয়া মাছ – দেখে নিন কেন ?


কাঁচা লঙ্কা, সর্ষে দিয়ে তেলাপিয়ার ঝাল, কিংবা স্রেফ ঝোল। মাসে অন্তত কয়েকবার পাতে পড়ে না, এমন বাঙালি মেলা ভার। ডায়েটিশিয়ানরাও বলেন, শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডের চাহিদা মেটাতে ছোট মাছের বিকল্প নেই। কিন্তু তেলাপিয়া মাছ থেকে সাবধান।
পারলে এখনই খাওয়া বন্ধ করুন। তা না হলে অ্যাস্থমা, করোনারি ডিজিজ, হাড় ক্ষয়ের মতো নানা রোগ এমনকি ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও অচিরেই বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। ত্যালাপিয়া রান্না করা সহজ, কাঁটা বেশি থাকে না, খেতে সুস্বাদু। আপাত সস্তাও। সবই ঠিক আছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গবেষণায় তেলাপিয়া সম্পর্কে মারাত্মক তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। দেখা গিয়েছে, তেলাপিয়া মাছের থাকা উপাদান শরীরকে ধীরে ধীরে শেষ করে।
এক কথায়, স্লো পয়জন(Slow Poison)। কেন তেলাপিয়া বিপজ্জনক? তেলাপিয়া মাছ বড় হয় সাধারণ অবস্থাতেই। কিন্তু চাষ করা হয় ফার্মে। আমরা বাজার থেকে যে তেলাপিয়া কিনি, সেগুলি সবই নির্দিষ্ট কারখানায় চাষ করা হয়। আর এখানেই বিষ হয়ে যায় তেলাপিয়া। ফার্মে তেলাপিয়ার স্বাদ বাড়ানোর ও সংখ্যায় বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় নানা রকম রাসায়নিক সার। সঙ্গে বিষাক্ত কীটনাশক। দেখা গিয়েছে, ফার্মে তেলাপিয়া চাষে ব্যবহার করা হয় এমন কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা থেকে ক্যান্সার হয়। তাই চিকিৎ‌সকদের পরামর্শ, সুস্থ ভাবে বাঁচতে অবশ্যই মাছ খান।

যে কারনে হোটেলে দেওয়া সাবান জীবনেও হাত দিবেননা! আর দিলে যা হবে জানলে আতকে উঠবেন


যে কারনে হোটেলে দেওয়া সাবান জীবনেও হাত দিবেননা – কোথাও ঘুরতে গেলে হোটেল থেকে কি সুগন্ধী সাবান কিংবা বাথরুমের অন্যান্য জিনিস নিয়ে আসার অভ্যেস আছে আপনার? তাহলে আজ থেকেই সেই অভ্যেসটা বদলে ফেলার চেষ্টা করুন৷
কারণ আপনি কি জানেন আপনার ব্যবহৃত সাবানই পৃথিবীর একাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করছে! অবাক লাগছে? কিন্তু একটি বিশেষ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই একটি তথ্য৷ ’ক্লিন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই বিষয়টি নিয়েই কাজ করে৷
WHO-র সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, সারা বিশ্বে ২.৫বিলিয়ন মানুষ পরিষ্কার শৌচালয় ব্যবহার করতে পারেনা৷ প্রতি বছর প্রায় ৫লাখ ২৫হাজার শিশু মারা যায় এই কারণে৷ যাদের প্রত্যেকের বয়সই পাঁচ বছরের নীচে৷ ’ক্লিন দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামক এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি ব্যবহৃত সে সমস্ত সাবান গুলিকে পুনর্ব্যবহার যোগ্য করে আবার নতুন করে তৈরি করে৷
আর তা ১১৫টি দেশে সেই নতুন সাবান ছড়িয়ে দেওয়া হয়৷ আর সাবানের সেই সংখ্যাটি প্রায় ৪০মিলিয়ন৷ তবে শুধু সাবান নয়৷ কন্ডিশনার, শ্যাম্পু সমস্ত কিছুই রয়েছে এই তালিকায়৷
দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র তরফে জানানো হয়েছে, ডায়রিয়ার ফলে প্রতি বছর যে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়৷ সেই সংখ্যাটি অতি সহজেই ৫০শতাংশ কমিয়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সিডিসি৷
এরফলে মৃত্যুহারও কমবে অনেকাংশে৷হিলটন, ডিজনির মতন বিশ্বখ্যাত হোটেলগুলি এই বিশাল কর্মসূচিতে যোগদান করেছে৷ আজ থেকে আপনিও তৈরি হয়ে যান এই উদ্যোগে সামিল হওয়ার জন্য৷ আপনার ছোট প্রয়াস যদি লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে তাহলে মন্দ কি?

রাতে ঘুমের আগে যে মারাত্নক ভূল করে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন !


ঘুম শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম না হলে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি আমরা। ঘুমের মধ্যে শরীরের সব অঙ্গ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে। ভালো ঘুম না হলে অনেক ধরনের রোগ তৈরি হয়, মানসিক চাপও বাড়ে। কাজেই ঘুম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আর নির্ঝঞ্ঝাট ঘুমের জন্য রয়েছে কিছু টিপস। লাইফস্টাইল ওয়েবসাইট বোল্ড স্কাই জানিয়েছে ঘুমের আগে কিছু জিনিস করবেন না, তাহলে দুই চোখজুড়ে ঘুম আসবে আপনার।
তর্ক-বিতর্ক
ঘুমানোর আগে যদি কারো সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হন তখন আপনার মন নানা চিন্তায় পূর্ণ হয়ে যায়। যুক্তির পিঠে পাল্টা যুক্তি আপনার ভাবনায় আসতেই থাকবে। এটি আপনার ঘুমকে ব্যাহত করবে। গবেষকরা বলেন, ঘুমের আগে কারো সঙ্গে ঝগড়া করলে, এর রেশ রয়ে যায় পরেরদিন ভোর পর্যন্ত। পুরো রাত নিশ্চিন্ত ঘুমকে নিশ্চিত করতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে কোনো তর্কবিতর্ক নয়, কেমন?
আগ্রহ জাগায় এমন বই
ঘুমানোর আগে বই বা উপন্যাস পড়লে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে। তবে এ সময় কোনো উৎসুক বা জানার আগ্রহ হয় এমন গল্পের বই পড়তে যাবেন না। এর ফলে আপনি বইটি পড়তেই থাকবেন আর এতে আপনার ঘুমের সময় চলে যাবে। তখন ঘুম সহজে ধরা দেবে না চোখে।
ব্যায়াম করবেন না
ব্যায়াম শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও সুঠাম রাখে। তবে ঘুমের আগে ব্যায়াম করলে ঘুম ব্যাহত হবে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং এটা ঘুমের অসুবিধা করে। তাই ঘুমের আগে শরীরচর্চা নয়।
ইন্টারনেট ব্রাউজ করা
ঘুমের আগে ল্যাপটপ চালানো বা টিভি দেখা ঘুমের আবেশকে নষ্ট করে দেয়। টিভির স্ক্রিন থেকে যে আলো আসে সেটা ঘুম তৈরির হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণকে কমিয়ে দেয়। সব ধরনের স্ক্রিনের আলো এমনকি মোবাইল ফোনের আলোও এড়িয়ে চলুন।
বিছানায় বসেও কাজ নয়
ঘুমাতে যাওয়ার আগে যেকোনো ধরনের অফিসের কাজ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এটা মানসিক চাপ তৈরি করে এবং ঘুমকে ব্যাহত করে। কাজেই বিছানায় যাবেন ঘুমোতেই, কাজ করে ঘুমাবেন এমন চিন্তা করবেন না।
শিশুদের সঙ্গে খেলা
ঘুমানোর আগে শিশুর সঙ্গে খেলতে যাবেন না। এটা শিশু এবং আপনার উভয়ের ঘুমই নষ্ট করবে। মস্তিষ্ককে শেখাতে হবে খেলার সময় খেলা, ঘুমের সময় ঘুম।
চা-কফি খাবেন না
চা-কফি বা যে কোনো ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার ঘুমানোর আগে এড়িয়ে চলুন। এগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
গরম পানির গোসল
গরম পানির গোসল শরীরের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। এটি ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমের আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে যাবেন না।
বেশি খাবেন না
রাতের খাবারে বেশি খাওয়া অনেক সময় ভীতিকর স্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি ঘুমকে ব্যাহত করবে। আবার অস্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে দুঃস্বপ্নও দেখাতে পারে। পেটে গণ্ডগোল থাকলে ঘুম তো নষ্ট হবেই। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুম ভালো হওয়ার জন্য রাতে স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খান।
দুশ্চিন্তা বাদ দিন
যেকোনো ধরনের দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ বাড়ায়। সারা দিন কী করলেন, না করলেন এগুলো চিন্তা করতে যাবেন না। যদি কোনো চিন্তার কারণ থাকে সেগুলো একটি নোট প্যাডে লিখে রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি চিন্তা থেকে কিছুটা অব্যাহতি দেয় এবং ঘুমাতে সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাচ্ছেন?? থামুন…! প্লীজ এড়িয়ে যাবেন না! বাঁচতে চাইলে, এখনই পড়ুন!


গলা জ্বালাপোড়া বা পেটে গ্যাসের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এক ধরনের ওষুধ সেবনে আমাদের কিডনিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করলেন গবেষকরা।
গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরস (পিপিআইএস) জাতীয় ওষুধ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ তৈরি করে।
নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক প্রদীপ আরোরা ও তার গবেষক দল ৭১ হাজার ৫১৬ রোগীর পরীক্ষা করেন,
যাদের মধ্যে ২৪ হাজার ১৪৯ জন দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত। এসব রোগীর মধ্যে ২৫ শতাংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন।
পিপিআই জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারী মধ্যে ১০ শতাংশের কিডনি রোগীর ঝুঁকি বাড়ায় এবং ৭৬ শতাংশের ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
প্রদীপ অরোরা বলেন, রোগীদের বৃহৎ একটা অংশ পিপিআইএস জাতীয় ওষুধ সেবন করেন। যারা স্বাস্থ্য সেবা দেন তাদের এই জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিৎ।

হৃদরোগ এড়াতে ডাঃ দেবি শেঠির কিছু চমৎকার পরামর্শ


দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল।
প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?
দেবি শেঠি:
১. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
প্রশ্ন: দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল?
দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমার রোগী ছিলেন।
প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে?
দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।
প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি?
দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার।
প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খারাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?
দেবি শেঠি: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
দেবি শেঠি: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি?
দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
দেবি শেঠি: যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?
দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।
প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে?
দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।
প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
দেবি শেঠি: বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়?
দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি?
দেবি শেঠি: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।

জেনে নিন ব্রেন টিউমার কি ? কেন হয় ও কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি


টিউমার হচ্ছে শরীরের যে কোনো জায়গায় বা অঙ্গে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এবং এই টিউমারটি যখন ব্রেনের ভেতরে হয় তখন সেটাকে আমরা বলি ব্রেন টিউমার।
এর লক্ষণগুলো:- ব্রেন টিউমারের লক্ষণ একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়ার এই তিনটিকে আমরা সব টিউমারের ক্ষেত্রে ধরতে পারি।
এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন: রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো একদিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে।
অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যা ব্রেন টিউমারের রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।
ব্রেন টিউমার কেন হয়:- ব্রেন টিউমারের কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। খারাপ টিউমার শরীরের অন্য জায়গা থেকে ক্যান্সারের রূপ নিয়ে ব্রেনের মধ্যে চলে যায়। বংশগত কারণেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।
কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি? বাংলাদেশে এর প্রকোপ কেমন:- কিছু টিউমার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়।
মহিলাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউমারটি একেক রকমভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।
এক কথায় বলতে পারি, যে কোনো বয়সের, যে কোনো পুরুষ বা মহিলার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে।
এটা সত্যি দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে ক্রমশ আমরা এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।
ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব:- ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য।
কিছু কিছু টিউমার আছে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়। আর কিছু আছে যা থেকে আপৎ হতে পারে।
ব্রেন টিউমার কীভাবে চিহ্নিত করা হয়? এর জন্য কী ধরনের পরীক্ষা করা হয়:- যে কোনো রোগ নির্ণয়ের প্রথম পদ্ধতিই হচ্ছে তাকে ক্লিনিকে আনা, পর্যবেক্ষণে রাখা।
রোগীর বিশেষ শারীরিক পরীক্ষা করা যেটাকে আমরা বলি নিউরোলজিক্যাল বিশ্লেষণ। রোগীর বর্ণনা থেকে এবং রোগের লক্ষণ দেখে ধারণা করা যায়।
মাথার নরমাল প্লেন এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা কিছু ধারণা করতে পারি কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়। পদ্ধতি হচ্ছে সিটি-স্ক্যান এবং আরও ভালো হচ্ছে এম.আর.আই।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর পরিণতি কী:- সাধারণভাবে আমরা টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করি। ১. ভালো টিউমার, ২. খারাপ টিউমার।
ভালো টিউমার যদি সঠিকভাবে অপারেশন করে সম্পূর্ণ বের করা যায় তাহলে রোগী স¤পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। আর যদি ক্যান্সার টিউমার হয় তবে তারও রকমবেদ আছে।
কিছু কিছু খারাপ টিউমার আছে যা হলে রোগী কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে পারে। আর কিছু কিছু টিউমার আছে যা এতই খারাপ যে, রোগী ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি বেঁচে থাকে না।
ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী কী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়:- যে কোনো টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে সার্জারি বা অপারেশন। অপারেশন করে রোগীর টিউমারকে বের করে, বায়োপসি করে প্রকৃতি নির্ণয় করে পরবর্তী চিকিৎসা করা হয়। তবে এখন হোমিও ট্রিটমেন্টও এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে।
কী কী ধরনের মুখে খাওয়ার ওষুধ আছে:- ব্রেন টিউমারে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা কোনোভাবেই সম্ভব নয় তবে রোগের লক্ষণগুলোর চিকিৎসা ওষুধ দ্বারা করা সম্ভব।
টিউমারের জন্য যেসব লক্ষণ যেমন মাথাব্যথা ও বমি হওয়া এইসব লক্ষণের চিকিৎসায় আমরা ওষুধ দিয়ে করতে পারব। তাও সাময়িকভাবে।
টিউমার যখন আস্তে আস্তে বড় হবে টিউমারের লক্ষণগুলো আরও বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়বে; যার ফলে ওষুধ দিয়ে শুধু সাময়িকভাবে তার লক্ষণগুলোকে কিছুদিন কমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু ওষুধের চিকিৎসা টিউমারের জন্য নয়।
অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা:- অপারেশনের মাধ্যমে ব্রেনটা খুলে ব্রেনের যে লোকেশনে টিউমারটা আছে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে টিউমারটাকে সরিয়ে আনা হয়।
ক্যান্সার টিউমারের ক্ষেত্রে আমরা যতটুকু সম্ভব বের করে দিই। যতখানি বের করা যায় রোগীর উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
এমন কিছু পদ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে ব্রেন টিউমার বের করার জন্য মগজ বা ব্রেন খুলতে হয় না। রেডিও সার্জারির মাধ্যমে ছোট ছোট টিউমার যেমন – ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির ছোট যেগুলো হয় সেগুলো ছোট বা নষ্ট করে দেয়া হয়।
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় রঞ্জনরশ্মির ভূমিকা:- রঞ্জন-রশ্মি টিউমারটিকে আপাত ছোট করে দেয় বা টিউমারের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আর রঞ্জনরশ্মি বলতে আমরা বুঝি অপারেশন করার পর রেডিওথেরাপি দেয়াকে।
যা আমরা দিই অপারেশন করার পর যদি দেখা যায় যে টিউমারি ক্যান্সার টিউমার বা খারাপ টিউমার। সে ক্ষেত্রে রোগীকে আগে থেকেই বলে দেয়া হয় সার্জারি করলে সম্পূর্ণভাবে এটি ভালো হবে না এবং অপারেশন করার পরেও রঞ্জনরশ্মি বা রেডিওথেরাপি মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
টিউমারটি বের করে দেয়ার পর ওই এলাকায় রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যেন টিউমারটির ক্ষমতা কমে যায়।
আমাদের দেশে বর্তমানে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা:- বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে এবং অধিকাংশ টিউমারের চিকিৎসা বাংলাদেশে করা সম্ভব।
বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে নিউরো সার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জারি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যদিও কিছু কিছু আধুনিক ব্যবস্থা এখানো আমাদের দেশে আসেনি। যেমন- রেডিওসার্জারি আমাদের নেই, গামা-নাইফ সার্জারি নেই। বাকি যেগুলো আছে সেগুলোতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি।
ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় বাংলাদেশের অবস্থা :- সার্বিকভাবে বলতে গেলে এখনো অনেক লোকজন আসলে জানে না যে, বাংলাদেশে কী কী নিউরোসার্জারি বা ব্রেন টিউমার সার্জার হয়।
এমনকি আমাদের অনেক চিকিৎসকেরও ভুল ধারণা আছে। বাংলাদেশে ভালো ভালো ব্রেন টিউমারের সার্জারি হচ্ছে এটা যেমন জানতে হবে তেমনই রোগীদেরও জানাতে হবে আমাদের দেশে সব ধরনের সার্জারি সম্ভব।
বাংলাদেশে এখন অনেক উন্নত হয়েছে, যার ফলে পাঁচ বছর আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো সার্জারি হচ্ছে এবং সফলতার হার অনেক বেড়েছে।
উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ব্রেন টিউমার চিকিৎসায় কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা কতটুকু:- উন্নত বিশ্ব বলতে আমাদের পাশের দেশও প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বলতে পারেন। ভারতে যেমন- রেডিওসার্জারি, গামা-নাইফ সার্জারি আছে যা আমাদের দেশে এখানা শুরু হয়নি।
হয়ত বেশিদিন লাগবে না শুরু করতে। এই দুটি দিক ছাড়া বাকি সব সার্জারি আমাদের এখন দেশেই সম্ভব। এই সব সার্জারি আশপাশের দেশের তুলনায় মনে হয় ভালোই হয়।
হয়ত আমরা এখন যে অপারেশন করি সেটা ৫ বছর আগে সম্ভব ছিল না। এগুলো এখন হচ্ছে এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তিগুলো আমাদের দেশে আসছে ।
‘খরচ খুব বেশি’ রোগীদের এই ধারণাটা পরিষ্কার নয়, যখন মনে করবে যে এই সার্জারি বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা ভালো হচ্ছে তখন রোগী স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে।

স্ত্রীর কারনে পুরুষদের হার্ট অ্যাটাক বেশি হয় ! কারন গুলো জানলে অবাক হবেন…


আজকের কম্পিটিশনের দুনিয়ায় স্ট্রেস একটি দৈনন্দিন সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকিও। আর এই স্ট্রেসকে দূরে সরিয়ে রাখতে বিজ্ঞানীরা
এবার নতুন এক উপায় বের করেছেন। তবে, তা বেশিভাবে প্রজোয্য পুরুষদের ক্ষেত্রেই। তাঁদের এই নতুন পন্থা ইতিমধ্যেই নাকি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে পুরুষদের উপর।
বৈজ্ঞানিকদের মতে শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটালে, কথা বললে নাকি ভালো থাকা যায়। প্রচণ্ডরকম ক্লান্তিতে বা বিষাদগ্রস্ততায় স্ত্রীর সঙ্গে মনের সব কথা শেয়ার করলে হৃৎপিণ্ডটি সুস্থ থাকবে।মার্কিন এই গবেষকরা তাঁদের গবেষণায় দেখেছেন, সঙ্গীর সঙ্গে ইতিবাচক কথা বললে হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।
সম্প্রতি আমেরিকায় কয়েকজন গবেষক জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে নাকি অতিরিক্ত নেতিবাচক কথা বললে তা সরাসরি হার্টের সমস্যা তৈরি করে দেয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় তা ইতিমধ্যেই নাকি প্রমাণিত।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, যারা স্ত্রীর সঙ্গে বেশি ঝগড়া করেন তাদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ফলে, ঝগড়া নয় ইতিবাচক কথাই বলুন স্ত্রীর সঙ্গে। ভালো থাকবেন। সুস্থ্য থাকবেন।

১ মাসে চিরবিদায় হবে এলার্জি!



এলার্জি শব্দটির সঙ্গে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। এলার্জির কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। এলার্জির সমস্যা যে কতোটা ভয়ংকর, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন।
এর থেকে মুক্তি পেতে কত কিছুই না করা হয়। খাদ্যতালিকা থেকে বাদ রাখতে হয় অনেক প্রিয় খাবার।
চিকিৎসকের মতে, কিছু কিছু খাদ্য গ্রহণের পর কারও কারও শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন- গরুর দুধ, ডিম, বাদাম,
সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শোল, বেগুন, কুমড়া, কচু থেকে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে। এতে ত্বক চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা হয়ে লাল হয়। চোখেও চুলকানি, পানি পড়া, লাল হয়ে ফুলে ওঠে।
রোগের লক্ষণ ও কতদিন থেকে হয়েছে এর সঙ্গে রোগীর জন্মগত ত্বকের রোগ, হাঁপানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচির সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানা হয়।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, যেমন- স্কিন প্রিক টেস্ট, স্পেসিফিক আইজিই-ও করা হয়।
শুধু তাই নয় এলার্জির কারণে বছরের পর বছর অনেক পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়। এতে অনেকেই ভোগেন পুষ্টিহীনতায়। তবুও এলার্জি থকে মুক্তি মেলে না।
তবে এলার্জি নিয়ে আর ভাবনা নয়। এলার্জি আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিন্তা ভুলে নিম পাতার মিশ্রণে এক মাসের মধ্যে সহজ উপায়ে এলার্জিকে চিরবিদায় জানাতে পারবেন! আসুন জেনে নিই নিম পাতার মিশ্রণের প্রস্তুত প্রণালী-
* এক কেজি নিম পাতা ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।
* শুকনো নিম পাতা পাটায় গুড়ো করে পরিষ্কার একটি কাচের পাত্রে ভরে রাখুন। ব্যবহারের পদ্ধতি
* এক চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিম পাতার গুড়া এবং এক চা চামচ ভুষি এক গ্লাস পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। আধা ঘণ্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে নেড়ে খেতে হবে।
* প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাতে শোয়ার আগে এই মিশ্রণ খাবেন।
* এ মিশ্রণ কমপক্ষে ২১ দিন খেতে হবে। কার্যকারিতা শুরু হতে এক মাস সময় লাগতে পারে।
নিম পাতার মিশ্রণ এক মাস খাওয়ার পর আপনার এলার্জি কমে যাবে। তারপর আপনি স্বাভাবিকভাবেই পছন্দের খাবারগুলো যেমন হাঁসের ডিম, বেগুন, গরুর মাংস, চিংড়ি, কচু, দুধ, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া খেতে পারবেন।
তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, জানেন তো কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। তাই পছন্দের সব খাবার খাবেন তবে পরিমিত।

ছেলে বা মেয়ে সন্তান চাইলে যেটা করা প্রয়োজন


অনেকেরই শখ থাকে তার পরবর্তী সন্তানটি হবে ফুটফুটে একটি মেয়ে অথবা দুরন্ত একটি ছেলে। একেবারে নিশ্চিত হবার কোনো উপায় না থাকলেও, ছোট্ট একটি প্রাকৃতিক কৌশল অবলম্বন করে সফলতা অর্জন করা যেতে পারে।
মূলত শারীরিক মিলনের সময়ের ওপরে নির্ভর করে এই পদ্ধতি। তা কি করে কাজ করে জানতে হলে আপনাকে প্রথমেই দুইটি বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। একটি হলো ওভিউলেশন বা ডিম্বপাত নামের প্রক্রিয়াটি কিভাবে কাজ করে, আরেকটি হলো স্পার্ম বা শুক্রাণু কিভাবে একে প্রভাবিত করে।
প্রথমে দেখা যাক ওভিউলেশনের প্রক্রিয়াটি কিভাবে কাজ করে। নারীর শরীরে প্রতি মাসে পাঁচ দিনের একটি সময়সীমা থাকে যখন ওভিউলেশন হয়। ডিম্বপাতের তিন দিন আগে থেকে শুরু করে এক দিন পর পর্যন্ত হল গর্ভধারণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময়। কারণ ডিম্ব কার্যকরী থাকে মাত্র ২৪ ঘণ্টা, কিন্তু শুক্রাণু নারীর শরীরে পাঁচ দিন পর্যন্ত কার্যকরী থাকতে পারে।
এই সময়ের মাঝে গর্ভধারণ করা যাবে তা জানা গেলো। এবার আসুন সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা কিভাবে ঠিক করা যেতে পারে। জানতে হবে শুক্রাণুর প্রভাব। x ক্রোমোজোমধারি শুক্রাণু দ্বারা ডিম্ব নিষিক্ত হবার কারণে সন্তান মেয়ে হবে, আর Y ক্রোমোজোমের কারণে সে হবে ছেলে। Y শুক্রাণু তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট, কিন্তু তা আবার বেশ দ্রুতগামী। তারা খুব বেশিক্ষণ জীবিত থাকে না। X শুক্রাণু বেশ বড় এবং ধীরগতির, কিন্তু তারা আবার একটু বেশ সময় বাঁচে।
এই দুইটি বিষয় জেনে রাখার পর আসুন দেখি করনীয় কি। ছেলে সন্তান চাইলে Y শুক্রাণু যাতে খুব দ্রুত ডিম্বের কাছাকাছি যেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য নারীর যে দিন ডিম্বপাত হচ্ছে সে দিনেই মিলিত হওয়াটা জরুরি। নয়তো শুক্রানুটি আর কার্যকরী থাকবে না।
আবার আপনি যদি মেয়ে সন্তান চান তবে ডিম্বপাতের দুই থেকে তিন দিন আগে মিলিত হতে হবে। ডিম্বপাত হবার আগেই সব Y শুক্রাণু মারা যাবে, ফলে সন্তান ছেলে হবার সম্ভাবনা কম থাকবে। বেঁচে থাকবে X শুক্রাণুগুলো। ফলে মেয়ে সন্তান হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

যদি সন্তান চান, এই তিন দিন মিলন একেবারেই নয়!


প্রাচীন ভারতে সন্তানজন্মকে ঘিরে আবর্তিত হত বেশ কিছু সংস্কার। এদের এক কথায় ‘কুসংস্কার’ বলে উড়িয়ে দেওয়াও যায়নি দীর্ঘ কালপর্বে। এই সংস্কারগুলি সাধারণত ‘গর্ভসংস্কার’ নামে পরিচিত ছিল। গর্ভদশা থেকেই জ্যোতিষশাস্ত্রবিদরা জাতকের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গণনা শুরু করতেন। অনেকে আবার এমন মতও পোষণ করতেন যে, গর্ভদশারও আগে সন্তান সম্পর্কে যখন দম্পতিরা ভাবনা শুরু করেন, সেই দিন থেকেই সেই সন্তানের ভাগ্য নির্ধারণ করা সম্ভব।
বিষয়টা ঘোর রহস্যময়। কিন্তু গর্ভসংস্কার অনুযায়ী, যে কোনও দিনে গর্ভধারণ কিন্তু বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই সংস্কারের প্রবক্তারা শাস্ত্রেই (বিস্তর শাস্ত্রে এর উল্লেখ রয়েছে। রয়েছে বাৎস্যায়ন-পূর্ববর্তী কামশাস্ত্রকারদের অনেকের রচনাতেও) জানিয়েছেন, সপ্তাহের তিনটি দিন সন্তানধারণের অভিপ্রায়ে মিলিত না-হওয়াই ভাল।
তাঁরা জানাচ্ছেন—
• মঙ্গলবার সন্তানধারণের উদ্দেশ্যে মিলিত হলে সন্তানের উপরে মঙ্গলের প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে সেই সন্তানের নিষ্ঠুর ও হিংস্র মনোভাবাপন্ন হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
• শনিবার সন্তান-কামনায় মিলিত হলে শনির প্রকোপে সন্তানের মধ্যে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিতে পারে। সন্তানের অঙ্গহানিও ঘটতে পারে।
• রবিবার দিনটিকে অনেক শাস্ত্রই কোনও কিছু আরম্ভের ব্যাপারে এড়িয়ে চলতে বলে। এদিন সন্তান-কামনায় কেউ যদি মিলিত হন, তবে তাঁর সন্তানের উপরে রবি বা সূর্যের প্রভাব থাকবে বিপুল পরিমাণে। ফলে তারা ভবিষ্যতে প্রবল ক্রোধী হয়ে উঠতে পার। এবং তাদের হৃদযন্ত্র-ঘটিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাবধান! আপনার এই ৪টি নিত্যব্যবহার্য জিনিসেই লুকিয়ে রয়েছে ক্যানসারের বীজ


প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর, অর্থাৎ রোগের চিকিৎসার তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ভাল— ক্যানসারে ক্ষেত্রে এই নীতি মেনে চলাই শ্রেয়।
ক্যানসার এমন একটি রোগ, যাকে নিশ্চিতভাবে সারাবার মতো ওষুধ এখনও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধরা। কাজেই প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর, অর্থাৎ রোগের চিকিৎসার তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ভাল— ক্যানসারে ক্ষেত্রে এই নীতি মেনে চলাই শ্রেয়। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রিভেনশন অফ ক্যানসার নামের সংস্থার স্বাস্থ্যবিষয়ক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এমন ৪টি দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের তালিকা, যেগুলির নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। কোন ৪টি জিনিস? আসুন, জেনে নেওয়া যাক—
১. কৃত্রিম চিনি: স্যাকারিন জাতীয় কৃত্রিম চিনিতে থাকে অ্যাকেসুফ্লেম কে— যা শরীরে টিউমার তৈরির কারণ হিসেবে কাজ করে, অ্যাসপারটেম— যা স্কিন ক্যানসারের অন্যতম কারণ, স্যাখারিন— যা রেচনতন্ত্রের ক্যানসার সৃষ্টি করে, এবং সর্বিটল— যা পেটের নানা সমস্যার কারণ। কাজেই কৃত্রিম চিনি দূরে সরিয়ে রেখে, প্রাকৃতিক চিনি খাওয়াই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
২. এয়ার ফ্রেশনার: ঘরদোর সুরভিত রাখার জন্য অনেকেই এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই ধরনের এয়ার ফ্রেশনার শুধু যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে তা-ই নয়, এমন কিছু রাসায়নিক এয়ার ফ্রেশনারে থাকে, যেগুলি ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ক্যানসারের কারণ হিসেবে কাজ করে। কাজেই এয়ার ফ্রেশনারের বদলে ঘরের কোণে কোণে পুদিনা পাতা ভেজানো জল ছিটিয়ে দিন। ঘরদোর সুরভিত থাকবে।
৩. অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু: খুসকি তাড়ানোর জন্য যে শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয় তাতে মিথাইলোক্লোরোইসোথিয়াজোলনোন এবং অ্যামোনিয়াম সালফেটের মতো কিছু রাসায়নিক থাকে, যেগুলি কার্সিনোজেনিক হিসেবে প্রমাণিত। কাজেই এই ধরনের শ্যাম্পুর ব্যবহার কমিয়ে খুসকি তাড়ানোর কোনও প্রাকৃতিক কৌশল কাজে লাগানো উচিৎ।
৪. অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান: ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিআই) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য যে সাবান ব্যবহার করা হয়, তাতে এমন কিছু রাসায়নিক থাকে যেগুলি স্কিন ক্যানসার সৃষ্টি করে।

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে খুব দ্রুত যা খাবেন


হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য এমন সব খাবারের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।
কারণ খাদ্যের এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাদ্য যেমন দই ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম।
তাজা ফল যেমন আপেল, কলা আর শাকসবজি হচ্ছে পটাশিয়ামের ভালো উৎস। টমেটোতেও আছে বেশ পটাশিয়াম।
বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদিতে।
১. কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।
৩. ফল ৪ থেকে ৫ সার্ভিং প্রতিদিন। টুকরো টুকরো করে কাটা আধা কাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধা কাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।
৪. শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধা কাপ রান্না করা শাক।
৫. দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।
৬. বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

৭ দিন খালি পেটে রসুন-মধু খেলে কী হয়? জেনে নিন !


কেবল মাত্র খাবার হিসেবে নয়, বহুকাল আগে থেকে রসুন garlic ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জাতিই রসুনকে বিভিন্ন অসুখ থেকে নিরায়মের জন্য ব্যবহার করে আসছে।
আবার বিভিন্ন দেশে রোগ নিরামকারী উপাদান হিসেবে মধু honey ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০ শতকের মাঝামাঝি এসে একে অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে তুলনা করা হয়। মধুকে সংক্রমণ প্রতিরোধী উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই দুটো চমৎকার জিনিস যখন একসাথে হয় তখন এর গুণ বেড়ে যায় আরো বেশি।
রসুন ও মধুর মিশ্রণ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, ঠান্ডা, জ্বর, কফ ইত্যাদি সারাতে বেশ ভালো কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কেবল সাতদিন রসুন ও মধুর মিশ্রণ খেলে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে অনেকটাই রক্ষা করা যায়।
জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট রাইস আর্থ জানিয়েছে মধু ও রসুনের এই মিশ্রণটি তৈরির প্রণালি।

উপাদান –

১/ একটি মাঝারি আকৃতির বয়াম
২/ মধু
৩/ তিন থেকে চারটি রসুন। (খোসা ছড়িইয়ে কোয়াগুলো বের করুন।)

প্রণালি –

প্রথমে বয়ামের মধ্যে রসুনের কোয়াগুলো নিন। এরপর এর মধ্যে মধু ঢালুন। বয়ামের মুখ বন্ধ করে মিশ্রণটি ফ্রিজের মধ্যে সংরক্ষণ করুন।
প্রতিদিন খালি পেটে মিশ্রণটি আধা চা চামচ করে খান। ঠাণ্ডাজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য দিনে ছয়বার আধা চা চামচ করে এটি খেতে পারেন। এটি সংক্রমণ দূর করতে কাজ করবে।

কিডনি ঠিক আছে তো? এই ৮ লক্ষণে সতর্ক হোন


গায়ে ঘনঘন র‌্যাশ বেরোচ্ছে? সারাদিনে প্রস্রাব হয় খুব কম? গরমেও কম ঘামেন? আপনার কিডনি ঠিকঠাক কাজ করছে তো? কারণ, কিডনির কাজই হল শরীর থেকে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া। এককথায়, ছাকনির মতো কাজ করে কিডনি। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। যে পদ্ধতিতে গোটা কাজটা সম্পন্ন করে, তাকে বলা হয় হোমিওস্টেসিস। তাই কিডনি বেগরবাই করলেই শরীরে টক্সিন জমবে। কী করে বুঝবেন? নীচে উল্লিখিত এই আটটি লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হোন। কথা বলুন ডাক্তারের সঙ্গে।
১. ফোলা-ফোলা ভাব: কিডনির সমস্যার অন্যতম লক্ষণ প্রস্রাব ও ঘাম কম হওয়া। ফলে সেই জল শরীরের গাঁটে গাঁটে জমে। অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও জল জমতে পারে। যে কারণে মুখচোখ ও শরীর ফোলাফোলা লাগে।
২. মূত্রের সমস্যা: কিডনি বিকল হলে প্রস্রাব করতে সমস্যা হয়। প্রস্রাবের সময় চাপও বোধ হয়। যদি অনেকক্ষণ ছাড়া ছাড়া প্রসাব হয় এবং প্রসাবের রং গাঢ় হয় বা যদি অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রসাব হতে থাকে বা খুব ঘন ঘন ফ্যাকাশে রঙের প্রস্রাব হয়, ধরে নেওয়া যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না। রাতে ঘুমের সময় বারবার প্রস্রাব করতে ওঠাও, কিডনির সমস্যার লক্ষণ।
৩. ত্বকে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ: শরীরে যখন অতিমাত্রায় টক্সিন জমে, অথচ কিডনি কাজ করতে পারে না, ত্বকে তখন ফুসকুড়ি বেরোয়। অন্যান্য চর্মরোগও দেখা যায়।
৪. ক্লান্তি চেপে বসবে: সুস্থ কিডনি থেকে EPO (এরিথ্রোপোয়েটিন) হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন অক্সিজেন বহন করতে আরবিসি বা লোহিত রক্তকণিকাকে সাহায্য করে। কিডনি ফেলিওরে এই হরমোন নিঃসরণ কমে যাওয়ায় আরবিসিতে তার প্রভাব পড়ে। অল্প পরিশ্রমই ক্লান্ত করে দেয়। মস্তিষ্ক ও পেশিকেও প্রভাবিত করে। রক্তাল্পতারও একই লক্ষণ।
৫. শ্বাসকষ্ট: কিডনির সমস্যার একটা কমন লক্ষণ। আরবিসি কমে যাওয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। এর ফলে শরীরে, বিশেষত ফুসফুসে টক্সিন জমতে থাকে।
৬. ধাতব স্বাদ: শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকার কারণে খাবারের স্বাদে পরিবর্তন আসে। খাবারে রুচি লাগে না। জিভে ধাতব স্বাদ লাগে। মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোয়।
৭. পিঠে ব্যথা: পিঠের উপরের অংশে যন্ত্রণার সঙ্গে কিডনির সম্পর্ক রয়েছে। কিডনি কাজ না-করলে, পিঠে যন্ত্রণা হতে পারে। আবার কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে।
৮. মাথা ঘোরা ও মনোনিবেশ করতে সমস্যা: শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দুটো কারণে হতে পারে। অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা নয়তো কিডনি ফেলিওর। মস্তিষ্কে অক্সিজেনের জোগান কমে যাওয়ার কারণেই একাগ্রতা কমে যায়। স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। মাঝেমধ্যে মাথাও ঘুরবে।
সুতরাং সারাদিনে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জাতীয় খাবার ও জল বেশি করে খেতে হবে। প্রসাব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখুন।

জেনে নিন যৌনশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কালোজিরা সেবনের পদ্ধতি


বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: “ তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যৃ ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”।- আসুন আমরা জেনে নেই আমাদের জন্য কি কি ঔষধী গুণ আছে এই কালোজিরাতে।
তারুণ্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে কালিজিরা খাওয়াটা দীর্ঘদিনের রীতি। কাজ করার শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে এই কালিজিরা। সরাসরি খাওয়ার থেকে প্রথম প্রথম ভাত বা রুটির সঙ্গে কালিজিরা খাওয়াটা অভ্যাস করুন। প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। কালিজিরার তেলও আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারি। কালিজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি।
১. রোগ প্রতিরোধে কালোজিরা: কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এটি যেকোনো জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কালোজিরা: কালোজিরা নিম্ন রক্তচাপ বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে শরীরে রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।
৪. যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে কালোজিরা: কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এটি পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি করে।
৫. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খেলে দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। এতে করে মস্তিস্কে রক্ত সঞ্চালনের বৃদ্ধি ঘটে; যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
৬. হাঁপানী রোগ উপশমে কালোজিরা: হাঁপানী বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা সমাধানে কালোজিরা দারুণ কাজ করে। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম হয়।
৭. পিঠে ব্যাথা দূর করে কালোজিরা: কালোজিরার থেকে তৈরি তেল আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
৮. শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে কালোজিরা: নিয়মিত কালোজিরা খাওয়ালে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। কালোজিরা শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে।
কালোজিরার ব্যবহার
১. তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাঁটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়। রুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালিজিরা সহায়তা করে। ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কালিজিরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
২. চুলপড়া, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মাথা ঝিমঝিম করা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।
৩. কালোজিরা চূর্ণ ও ডালিমের খোসাচূর্ণ মিশ্রন, কালোজিরা তেল ডায়াবেটিসে উপকারী।
৪. চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা মিশিয়ে অথবা এর তেল বা আরক মিশিয়ে পান করলে হৃদরোগে যেমন উপকার হয়, তেমনি মেদ ও বিগলিত হয়।
৫. মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়।
৬. কফির সাথে কালোজিরা সেবনে স্নায়ুবিক উত্তেজনা দুরীভুত হয়।
৭. জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়।
৮. কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য -শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না।
৯. সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালিজিরা পিষে খেলে শিশু দুধ খেতে পাবে বেশি পরিমাণে।
১০. মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
১১. দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে।
১২. কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে।
১৩. কালিজিরা মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালিজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক।
১৪. দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে।
১৫. নারীর ঋতুস্রাবজনীত সমস্যায় কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৬. কালোজিরার যথাযথ ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি শক্তি অজির্ত হয়। এর তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপর্ন নিদ্রা হয়।
১৭. প্রসূতির স্তনে দুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য, প্রসবোত্তর কালে কালিজিরা বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কালিজিরা খেলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে।
১৮. প্রস্রাব বৃদ্ধির জন্য কালিজিরা খাওয়া হয়।
১৯. কালোজিরা যৌন ব্যাধি ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য অতি উতকৃষ্ট ঔষধ।
হযরত কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, “প্রতিদিন ২১টি কালোজিরার ১টি পুটলি তৈরী করে পানিতে ভিজাবে এবং পুটলির পানির ফোঁটা এ নিয়মে নাশারন্দ্রে (নাশিকা, নাক) ব্যবহার করবে- “প্রথমবার ডান নাকেরছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। দ্বিতীয়বার বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। তৃতীয়বার ডান নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা ও বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা।”
হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন রোগ-যন্ত্রণা খুব বেশী কষ্টদায়ক হয় তখন এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা নিয়ে খাবে তারপর পানি ও মধু সেবন করবে।”

নারীদের স্তন ব্যথা হয় যে ৮ কারণে


বিভিন্ন কারণে স্তন ব্যথা হয়। তা হতে পারে ‘মেনোপজ’ শুরুর আগে ও পরে। সব বয়সে নারীদের স্তন ব্যথার সমস্যা হতে পারে। স্তন ব্যথার কিছু কারণ জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক স্তন ব্যথা হওয়ার কিছু কারণ:-
স্তনের সিস্ট:
স্তনের সিস্ট একধরনের নরম তরলসমৃদ্ধ থলি। সিস্ট সব আকারের হতে পরে। এতে অনেক সময় ব্যথা হয়, আবার অনেক সময় ব্যথা নাও হতে পারে। ঋতুস্রাবের চক্রের সময় সিস্ট বড় হয় এবং মেনোপজের সময় সাধারণত কমে যায়।
কসটোকনড্রাইটিস:
এটি একধরনের আরথ্রাইটিস। এতে পাঁজর ও স্তনের হাড়ের সংযুক্তস্থলে ব্যথা হয়। তবে এই সমস্যা স্তনের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে এত ব্যথা হয় যে মনে হয় স্তনে ব্যথা হচ্ছে। সাধারণত প্রবীণ নারী এবং যাঁরা সঠিক অঙ্গবিন্যাসে থাকেন না, তাঁদের এই ব্যথা হয়।
ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট চেইঞ্জ:
যেসব নারী প্রিমেনোপোজাল (মেনোপজের আগে) অবস্থায় থাকেন এবং যাঁরা মেনোপজের পরে হরমোনের চিকিৎসা নেন, তাঁদের স্তনে অনেক সময় ফোলাভাব হতে পারে, লাম্প হতে পারে। এই অবস্থাকে ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট চেইঞ্জ বলে। তবে এটি তেমন ক্ষতিকর নয়।
অন্তর্বাস:
সঠিক অন্তর্বাস ব্যবহার না করার কারণে অনেক সময় স্তনে ব্যথা হতে পারে। খুব আঁটসাঁট অথবা খুব ঢিলেঢালা অন্তর্বাস কোনোটাই স্তনের জন্য ভালো নয়। তাই সঠিক অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
স্তন ক্যানসার:
অধিকাংশ স্তন ক্যানসারে ব্যথা হয় না। তবে প্রদাহকারী স্তন ক্যানসার ও স্তনের টিউমার একধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। স্তনে লাম্প, ব্যথা, বোঁটা থেকে রক্তপাত, লাল ভাব ইত্যাদি দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন যেসব মা:
অনেক সময় যেসব মা বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁদের ক্ষেত্রে স্তনে ব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষণ শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ালে বা দুধ জমাট হয়ে থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।
ওষুধ:
কিছু ওষুধ সেবনের কারণেও স্তনে ব্যথা হতে পারে। যেমন : বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার জন্য কিছু ওষুধ, ওরাল হরমোনাল কনট্রাসেপটি, মেনোপজের পর এস্ট্রোজেন ও প্রোজেসটেরনের ওষুধ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, এনাড্রল ইত্যাদি ওষুধের কারণে অনেক সময় স্তনে ব্যথা হয়।
স্তনে অস্ত্রোপচার:
অস্ত্রোপচার এবং স্কার টিস্যু তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে।

থাইরয়েডের রোগীদের যে ৬ টি কাজ কখনোই করা উচিত নয়


থাইরয়েড হচ্ছে হরমোন উৎপাদনকারী প্রজাপতির আকৃতির ছোট গ্রন্থি যা শরীরের বিপাক এবং প্রতিটা কোষ, কলা এবং অঙ্গের কাজের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এটি ঘাড়ের নীচের ও মধ্যবর্তী স্থানে থাকে। পুরুষের চেয়ে নারীরাই থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন বেশি। থাইরয়েডের সাধারণ সমস্যাগুলো হচ্ছে – হাইপারথাইরয়ডিজম, হাইপোথাইরয়ডিজম, থাইরয়ডিটিস, থাইরয়েড নডিউল ইত্যাদি। অনেক থাইরয়েডের সমস্যাই জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে থাইরয়েডের সমস্যা আপনার বিপাককে প্রভাবিত করবে এবং আপনার কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ, অষ্টিওপোরোসিস এবং বন্ধ্যাত্ব এর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বেশীরভাগ থাইরয়েডের সমস্যাই সারা জীবন থাকে, যা আপনি খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন চিকিৎসা গ্রহণ, খাবার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে। থাইরয়েডের সমস্যা আছে যাদের তাদের যে কাজগুলো করা ঠিক নয় সেগুলো জেনে নিই চলুন।
১। স্ট্রেস
থাইরয়েডের রোগীদের জন্য স্ট্রেস বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরী। বস্তুত অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে থাইরয়েডের সমস্যা বৃদ্ধি বা প্রকাশিত হতে পারে। স্ট্রেসে ভুগলে শরীরে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয় যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে হস্তক্ষেপ করে।
২। ধূমপান
থাইরয়েডের রোগীদের জন্য ধূমপান করা এবং পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শ ক্ষতিকর। সিগারেটের ধোঁয়ায় সায়ানাইড থাকে যা অ্যান্টিথাইরয়েড এজেন্ট রূপে কাজ করে। এই যৌগটি সরাসরি আয়োডিন গ্রহণ এবং হরমোনের সংশ্লেষণে বাধা দেয়। এছাড়াও ধোঁয়ার অন্যান্য উপাদানও থাইরয়েডের কাজের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যায় আক্রান্তদের টোব্যাকো থেকে দূরে থাকা উচিত থাইরয়েডের লক্ষণের বৃদ্ধি প্রতিরোধের জন্য।
৩। ঔষধ গ্রহণে অবহেলা এবং নিয়মিত চেকআপ না করা
থাইরয়েডের সমস্যা নিরাময়ের জন্য নিয়মিত ঔষধ সেবন করা জরুরী। ভালো অনুভব করলেও নিজে নিজে ঔষধ গ্রহণ করা বন্ধ করে দেয়া ঠিক নয়। নিজে নিজে ভুল মাত্রার ঔষধ গ্রহণ করাও থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) ব্লাড টেস্ট নামক রক্ত পরীক্ষাটি বছরে ১/২ বার করানো উচিত।
৪। সকালে কফির সাথে থাইরক্সিন ট্যাবলেট গ্রহণ করা
থাইরক্সিন ট্যাবলেট সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে ভালোভাবে শোষিত হয়। নাস্তা গ্রহণের ৩০-৬০ মিনিট আগে থাইরক্সিন ট্যাবলেট সেবন করুন। এছাড়াও রাতে ঘুমানোর ২-৩ ঘন্টা আগে গ্রহণ করতে পারেন এই ঔষধ। মনে রাখবেন ফাইবারযুক্ত ও দুধের তৈরি খাবারের সাথে, প্রোবায়োটিকের সাথে, ক্যালসিয়াম ফরটিফায়েড ফ্রুট জুস, ক্যালসিয়াম, আয়রন বা অন্য কোন খনিজের সাপ্লিমেন্ট এবং কফির মত পানীয়ের সাথে থাইরেডের ঔষধ গ্রহণ করা ঠিক নয়। সবচেয়ে ভালো উপায়টি হচ্ছে ১ গ্লাস পানির সাথে এই ঔষধ গ্রহণ করা। একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ঔষধ গ্রহণ করা উচিত।
৫। কাঁচা ক্রুসিফেরি সবজি খাওয়া
অতিরিক্ত কাঁচা ক্রুসিফেরি সবজি খাওয়া থাইরয়েডের রোগীদের জন্য খারাপ, বিশেষ করে যাদের আয়োডিনের ঘাটতি আছে তাদের ক্ষেত্রে। এ ধরণের সবজিগুলোতে গ্লুকোসায়ানোলেডস নামক যৌগ থাকে যা থাইরয়েড হরমোন সংশ্লেষণে হস্তক্ষেপ করে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, পালংশাক, এবং মিষ্টি আলু এ ধরণের কয়েকটি সবজি যা কাঁচা খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া জরুরী থাইরয়েডের রোগীদের।
৬। সয়া খাদ্য
যদি আপনার থাইরয়েডের সমস্যা থাকে তাহলে ক্রুসিফেরি পরিবারের সবজির মত সয়া খাদ্য খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সয়া পণ্যে ফাইটোইস্ট্রোজেন এবং গয়ট্রোজেনিক উপাদান থাকে যা থাইরয়েডের কাজে এবং থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের শোষণে হস্তক্ষেপ করে। তাই থাইরয়েডের সমস্যা আছে যাদের তাদের সয়া সাপ্লিমেন্ট, জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ারড সয়া খাদ্য, সয়া চিজ, সয়াবিন তেল, সয়া আইসক্রিম এবং সয়া বার্গার খাওয়া উচিত নয়।
সূত্র: টপ টেন হোম রেমেডিস
সম্পাদনা: কে এন দেয়া
বিভাগ: লাইফ স্বাস্থ্য
ট্যাগ: থাইরয়েডের সমস্যা জীবনযাত্রা সুস্থ থাকুন