Subscribe:
Showing posts with label দেশ জনপদ. Show all posts
Showing posts with label দেশ জনপদ. Show all posts

বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, বাড়ছে দুর্ভোগ!


সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ভোগ। বানভাসী পরিবারের মাঝে খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানির অভাব তীব্র আকার ধারণ করছে।

যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

রংপুর ব্যুরো
রংপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা, ঘাঘট ও যমুনেশাবরীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। পানিবন্দি কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও কর্ম সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

লালমনিরহাট ও গঙ্গাচড়ায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্গমচরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ সামগ্রী অপ্রতুল হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী, গজঘন্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মনুষের সংখ্যা বেশি। এসব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, গজঘন্টা স্কুল এন্ড কলেজ, নোহালীর কেএনবি উচচ বিদ্যালয়, কোলকোন্দ আব্দুস সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্র এখনও মানুষ অবস্থান করছে।

স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত রাত থেকে প্রায় আট শতাধিক পরিবারের মাঝে চার হাজার কেজি মুড়ি ও চিড়া ও সাড়ে ৩শ’কেজি গুড় বিতরণ করা হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল থেকে বন্যার পানিবন্দি হয়ে পরিবারগুলোকে সেনা ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোনো কোনো বাড়িতে হাটু থেকে কোমার পর্যন্ত পানি রয়েছে। চার ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ ১৭টি গ্রামে চলছে খাদ্য সংকট।

উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নে ছয় মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ হলেও অপর দুইটি হরাগাছ ও শহীদবাগ ইউনিয়নে কোনো বরাদ্দ পায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় জানান, বন্যা কবলিত ইউনিয়ন গুলোতে ১০টন জিআর  চাল ও বানভাসী মানুষের জন্য ৪৪৭প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলায় বন্যার পানি কমলেও সেখানে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানিবন্দি হয়ে ২৫ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাম্বলপুর ও ছাওলা ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি।

অধিকাংশ পরিবার বাঁধের উঁচু স্থানে ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাদ্য দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর বোল্ডারের মাথা নামক স্থানে ক্রস বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় চরজীবীকায়ন প্রকল্পের প্রায় ছয় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ সব এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।

তবে ত্রাণ তৎপরতার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদা দেয়া হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন।

রংপুর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি দুর্গতদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

লালমনিরহাট
জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এ জেলার ১০৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে বানভাসীরা আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় ৮লাখ টাকা, ২৪২ মেট্রিকটন চাল ও ২হাজার কেজি শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোর।

পাটগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নুর কূতুবুল আলম জানান, বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে অনেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করছে।

সিরাজগঞ্জ
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৩১সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এতে জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ মোল্লা বলেন, এ ইউনিয়নের কমপক্ষে দেড় হাজার বাড়িঘর বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। চারটি আশ্রয় কেন্দ্র থাকলেও দূরত্বের কারণে কেউ সেখানে যেতে চান না।

মঙ্গলবার পাঁচ টন চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে দুর্গতদের মধ্যে এসব চার বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

বগুড়া ব্যুরো
বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কালিতলা হার্ড পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বিকালে কালিতলার উত্তরপাশে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৫০ মিটার অংশের ব্লক ২-৩ ইঞ্চি দেবে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কালিতলা হার্ড পয়েন্ট এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে যমুনা নদীতে পানি বেড়ে বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পাশে ১২ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত দুই হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। অনেক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভুতবাড়ি ৩টি, রঘুনাথপুরে ১টি, বানিয়াজানে ২টি ও চুনিয়াপাড়ায় ২টিসহ মোট ১০ পয়েন্ট ফাঁটল দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম পাশে বালুর বস্তা ফেলছে।

জামালপুর
জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণের জন্য হাহাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে একজন মারা গেছে।

জামালপুর জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, জামালপুর সদর ও বকশিগঞ্জ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে।

মঙ্গলবার মেলান্দহের কুলিয় সুইস গেটে পানিতে ডুবে মো. কমল (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র মারা গেছে। কমল মেলান্দহের টনকী গ্রামের টাবু শেখের পুত্র।

জামালপুর জেলা ত্রাণশাখা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের ৫৫টি ইউনিয়ন ও ৫টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। সরকারি হিসেবে এসব এলাকার সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জানান, জেলার বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ১২৮ মেট্রিক টন চাল, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণ আছে। জেলা প্রশাসন বন্যার্তদের পাশে থেকে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে।

নওগাঁ
নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ১৪টি স্থান ভেঙে গেছে। এরমধ্যে মান্দায় ৬টি, রানীনগর ৫টি, আত্রাইয়ে ২টি ও পত্নীতলায় ১টি বাঁধ ভেঙে গেছে। এসব এলাকা এখন পানির নিচে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে পানি বিপদ সীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী আত্রাই নদী ১৭০ সেন্টিমিটার, মান্দায় আত্রাই নদী জোতবাজার ১১১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীতে ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন উপজেলায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৪০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এ দিকে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় তুলনায় ত্রান খুবই অপ্রতুল বলে জানা গেছে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় ত্রান বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর)
সোমবার রাতে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর সভার চাঁদপুর-ভোলারচর চার কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে গেছে। এসময় স্রোতে ভেসে গেছে আটটি বাড়ি। আরো শতাধিক বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার হুমকি রয়েছে।

বাঁধের পূর্ব পাশের সুখনগরী, খিলকাটি, ফুলজোড়, বন্ধচতল, জামদহ গ্রামসহ অন্তত ১৪টি গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য চার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা)
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা গ্রামে পানির প্রবল চাপে চেরেঙ্গা বাঁধের ৩০ ফিট ধসে যায়। এতে নতুন করে চেরেঙ্গা, কিশামত চেরেঙ্গা, করিয়াটাসহ একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

এর আগে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউপির টোংরারদহ এলাকায় করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৬০ফিট অংশ ধসে বড় শিমুলতলা, তেকানী, প্রজাপাড়া, কেশবপুর, চকবালা, সগুনা, পশ্চিম মির্জাপুর, কাশিয়াবাড়ী, কিশোরগাড়ী, গনকপাড়া, হাসানখোর, জাফর, মুংলিশপুরসহ ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, সহকারী ভূমি কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলামসহ একটি টিম ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন।

বিশ্বনাথ (সিলেট)
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার উত্তরাঞ্চল লামাকাজী ইউনিয়নের তিলকপুর, রসুলপুর, লামাকাজীবাজার, মির্জারগাঁও, মাহতাবপুর, শাহপুর,খোজারপাড়া, মাধবপুর, কেশবপুর, সাঙ্গিরাই ও মোল্লারগাঁও গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার বিকালে লামাকাজী ইউনিয়নের পানিবন্দি লোকজনের মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়র  ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার তিনশ'পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

ধামইরহাট (নওগাঁ)
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে বাড়িঘর ও ক্ষেতের ফসল। এখনও উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি।

ভারতের উজান থেকে পানি আসায় উপজেলার আত্রাই নদীর পশ্চিম পার্শের পাড়ের তালতলী নামকস্থানে বাঁধ ভেঙ্গে খেলনা ইউনিয়ন, আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়ন, ইসবপুর ইউনিয়ন ও আলমপুর ইউনিয়নের অনেক গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে।

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া জানান, ত্রাণের চাহিদা জেলা প্রশাসন জানানো হয়েছে।

বন্যায় দিনাজপুর ও জামালপুরে আরও ৫ জনের মৃত্যু!!!

বন্যায় দিনাজপুর ও জামালপুরে আরও ৫ জনের মৃত্যুঃ

দেশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যায় মঙ্গলবার দিনাজপুর ও জামালপুরে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দিনাজপুর সদর, পার্বতীপুর ও বিরল উপজেলায় চারজন ও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় বন্যা জনিত কারণে একজনের মৃত্যু হয়।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। একটি নদী বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সব নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় দিনাজপুর জেলায় মঙ্গলবার মারা গেছে আরও চারজন। তারা হলেন- পার্বতীপুর উপজেলার নামাপাগড়া গ্রামের আতাবুর রহমান (৫৫), দিনাজপুর সদর উপজেলার সুইহারী রহমান পাড়ার আজাদ মিয়ার ছেলে হুময়ুন আহমেদ (১৬), বিরল উপজেলার গড়বাড়ী গ্রামের মৃত সুরাই মুর্মুর মেয়ে মালিয়া মুর্মু (৫৯) এবং একই উপজেলার ভূমিগড় গ্রামের আফসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান (১৫)।

এ নিয়ে দিনাজপুরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ জনে। এর আগে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দিনাজপুরে বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, দিনাজপুরের পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার, আত্রাই নদীর পানি দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ইছামতি নদীর পানি কিছুটা কমে বিপদসীমার দশমিক ৪১ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।

মঙ্গলবার মেলান্দহের কুলিয় সুইস গেটে পানিতে ডুবে মো. কমল (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র মারা গেছে। কমল মেলান্দহের টনকী গ্রামের টাবু শেখের পুত্র।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জানান, জেলার বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ১২৮ মেট্রিক টন চাল, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন বন্যার্তদের পাশে থেকে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইলের সালমা খাতুনের বেতন ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা !


টাঙ্গাইলের এমপিওভুক্ত এক হাইস্কুলের সহকারি গ্রন্থাগারিকের বেতন সাড়ে তিন কোটি টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ভুলে ঘটেছে এমন ঘটনা। সালমা খাতুন নামের এই গ্রন্থাগারিক টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের মাটিকাটা এম এল হাইস্কুলে চাকরি করেন। ওই গ্রন্থাগারিকের প্রকৃত বেতন ৮ হাজার টাকা। তার জানুয়ারি মাসের বেতন হিসেবে ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।
চলতি মাসে অর্থ ছাড় করার শেষ পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে অধিদপ্তরের। তবে এমপিও’র টাকা বরাদ্দে অসঙ্গতির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। চলতি মাসে কমপক্ষে এমন আরো ৬টি ঘটনা ঘটেছে।
একটি চক্র পরে এ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভগি করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য টাঙ্গাইলের ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলছে অধিদপ্তর।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এলিয়াস হোসেন বলেন, সার্ভার থেকে আমরা তথ্য নিয়ে দেখেছি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ঘরে সে অ্যাকাউন্ট নম্বর লিখেছে। আবার এরিয়ারে কত অ্যামাউন্ট হবে সেটার একটা কলাম ছিলো, সেখানেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিখে দিয়েছে। ‘যেহেতু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ছিলো ৩৪০৩৮৪৭৮ অর্থাৎ আট ডিজিট থাকার কারণে এটা কোটি টাকা হয়ে গেছে। মূলত অসাবধানতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।’
এলিয়াস হোসেন আরো বলেন, ব্যাংক যখন আমাদের জানিয়েছে যে এত টাকা এরিয়ার আসল, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে চিঠি দিয়ে বন্ধ করিয়েছি। এখন তদন্ত প্রক্রিয়া শেষের দিকে, আমরা এখন সার্ভারের রিপোর্টগুলোসহ একটা রিপোর্ট জমা দিব। এরপর টাকা ফেরত নেওয়ারও চিঠি প্রশাসন দিচ্ছে।
এ ঘটনার পর কম্পিউটার সফটওয়ারের বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কোরবানি ঈদের ছুটি হচ্ছে ৬ দিন


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে। এখন থেকে ঈদের ছুটি ছয় দিন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আসন্ন ঈদুল আজহা থেকে এটি কার্যকর হবে। বর্তমানে ঈদে সরকারি কর্মচারীরা ছুটি পান তিন দিন। চাকরিজীবীদের ঈদে স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে ছুটি বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন পেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সরকারি একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এবার ঈদের ছুটি শুরু হবে ৩০ আগস্ট বুধবার থেকে এবং শেষ হবে ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার। যদিও এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি ঈদের ছুটি হিসেবে কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা এবার ঈদের ছুটি পাবেন ছয় দিন। আর এ ছয় দিন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আর ঈদের এ বাড়তি ছুটি কর্মচারীদের ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ঈদে ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসার পরই এটি সর্বোচ্চ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। এখানে অনুমোদন পেলে ছুটির আদেশ জারি হবে। না হলে বিদ্যমান নিয়মে ছুটি থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে বছরের নির্ধারিত ছুটি ঠিকই থাকবে। বাড়তি ছুটি কর্মচারীদের ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধু ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটির সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সব ঠিকঠাক থাকলে এবার ঈদুল আজহা পালন হবে ২ সেপ্টেম্বর শনিবার। ঈদের দিন ও তার আগের দিন পড়ছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে বিদ্যমান নিয়মে এবার তিন দিন ঈদের ছুটি থাকলে এর দু’দিনই পড়ছে সাপ্তাহিক ছুটি। বাড়তি কোনো ছুটি পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। চাকরিজীবীরা বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়ির দিকে রওনা হবেন। আবার সোমবার অফিস খোলা থাকায় ঈদের পরের দিন রোববার ঢাকামুখী হবেন। এতে একসঙ্গে রাস্তাঘাটা, ফেরি, লঞ্চ, রেলের ওপর চাপ বাড়বে। মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এমনকি গ্রামের সড়কও বেহাল। তারপর এত চাপ মোকাবেলা করা প্রশাসনের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ারও আশঙ্কা থাকছে। ফলে চাকরিজীবীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি পেঁৗছতে ঈদের ছুটি বাড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ঈদে ছুটি বাড়ানোর দাবি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে ঈদুল ফিতরে সরকারি ছুটি তিন দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিন করার একটি প্রস্তাব দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও পরে এটি নাকচ হয়ে যায়। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিও ছয় দিন করার একটি প্রস্তাব তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে সম্মতি দেন; কিন্তু ওই সময় সংসদে বাজেট অধিবেশন থাকায় ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব আর কার্যকর হয়নি। এবার সরকারি কর্মচারীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে এবং ঈদে যাতে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন এ জন্য ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বছরে অফিস-আদালত ১৫৯ দিন বন্ধ থাকে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে ১০৪ দিন। অন্যান্য ছুটি থাকে ৫৫ দিন। খবর সমকাল।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে যা বললেন মৌসুমী


ঢাকাই ছবির প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমী। প্রায় আড়াই যুগের ক্যারিয়ার তার চলচ্চিত্রে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে অভিনয়ের জন্য অনেক স্বীকৃতি তিনি পেয়েছেন। রুপালি পর্দার বাইরেও দারুণ ব্যক্তিত্ব মৌসুমীর। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন সংসার।
আজ মৌসুমীর বিবাহবার্ষিকী। স্বামী-সন্তান নিয়ে একান্তই সময় কাটছে বাসায়। এরই মধ্যে একটি গুজবে বিরক্ত তিনি। গতকাল থেকেই সবখানে ছড়িয়েছে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন মৌসুমী। কিন্তু ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত এ অভিনেত্রী জানান, এ খবর সম্পূর্ণই মিথ্যা। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই। খবর : জাগো নিউজের।
মৌসুমী বলেন, ‘কে বা কারা বলছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তাই খুলনা থেকে নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এ খবর মিথ্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে কোনো প্রস্তাব দেননি। তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, অনেক বিষয় নিয়ে কথাও হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো আলাপই হয়নি। তাই গুজবে কান না দিতে আমি সবাইকে অনুরোধ করব।’
এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘তবে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে কোনো আদেশ দেন, সেটা নির্বাচন করার জন্যই হোক বা কোনো সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্যই হোক- আমি মাথা পেতে নেব। তিনি সংস্কৃতিপ্রিয় মানুষ। চলচ্চিত্রবান্ধব তার সরকার। তার প্রতি আমাদের চলচ্চিত্রের মানুষদের অন্যরকম শ্রদ্ধা রয়েছে সবসময়।’
মৌসুমী জানান, তিনি এখনও অভিনয়ে অনেক আনন্দ ও কাজের তৃপ্তি খুঁজে পান। এর পাশাপাশি ইউনিসেফসহ দেশি-বিদেশি নানা সংগঠনের হয়ে সমাজসেবামূলক কাজেও অংশ নেন তিনি। সবার ভালোবাসার এই পরিধিতেই নিজেকে সুখী মনে করেন মৌসুমী। রাজনীতি নিয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই তার।
মৌসুমী বর্তমানে ‘আমি নেতা হবো’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করছেন।
এছাড়া তার হাতে রয়েছে ‘মামলা হামলা ঝামেলা’, ‘কেউ কথা রাখেনি’ নামের আরও দুটি ছবি। সবগুলো ছবিতেই মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করছেন তার স্বামী ওমর সানি। এছাড়া ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ নামের আরেকটি ছবির কাজ সম্প্রতি শেষ করেছেন মৌসুমী।

বিনা টাকায় ঢাকা শহরে দুপুরের খাবার!


পৃথিবীতে গরীবের কেউ নেই- কথাটিকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা থেকেই দুই বছর আগে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এম এনামুল শুরু করেছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের মানুষদের এক বেলা খাবারের জোগান দিচ্ছে আমিন মোহাম্মদ মেহমানখানা। এটি আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি।
হাল আমলে বাঙালি তার অনেক স্বকীয়তাই ভুলতে বসলেও কিছু মানুষের এখনো ভালো লাগে মেহমানদারি করতে। এখনো বাঙালির আন্তরিকতা ও মানবিকতার প্রমাণ মেলে। আগের যুগে মানবসেবার নিদর্শন হিসেবে মুসাফিরখানা চালু করতেন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। বাংলাদেশী ভূমিতেও অনেক মুসাফিরখানা চালু ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের মেহমানদারি হতো সেখানে। হাল আমলে তা আর দেখা যায় না। তবে কিছু মানুষ এখনো ব্যতিক্রম- যারা মানুষ নিয়ে ভাবেন, সমাজ নিয়ে ভাবেন।
সে রকম ভাবনা থেকেই পথচলা শুরু হয়েছে ঢাকাই মেহমানখানার। এ মেহমানখানার মেহমান হতে কোনো বাধা নেই। কোনো নিয়ম নেই। যে-কেউ চাইলেই মেহমান হতে পারেন। ঢাকার বাসিন্দা হলেও ঢাকাতেই হবে আয়েশি পেটপুজো। এ জন্য যেতে হবে আপনাকে বাড়ির পাশে ধানমন্ডিতে। আমিন মোহাম্মদ মেহমানখানায়। সমাজসেবা ও মানবসেবার উদাহরণ বহু দেখা যায়। তবে অতিথিপরায়ণ বাঙালি ঐতিহ্যের নতুন সংযোজন এই ব্যতিক্রমী মেহমানখানা। এতে নেই কোনো বিনিময় আদান-প্রদান, নেই মেহমানের শ্রেণিবিন্যাস। সব শ্রেণিপেশার মানুষই এখানে সমান মর্যাদার অতিথি।
ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে সাত মসজিদ রোডে অবস্থিত এই মেহমানখানা প্রতিদিন ২২০০-২৫০০ জন মানুষের দুপুরের খাবার পরিবেশন করে থাকে। তাই প্রতিদিন এখানে একবেলা খাবারের জন্য ভিড় করেন হাজার হাজার নিম্ন আয়ের মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, পথশিশু এমনকি অল্প আয়ের কর্মচারীও আসেন একবেলা খাবারের জন্য।
১৬ টি বিশাল সাইজের পাতিলে বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা হয় এসব খাবার। প্রতিদিন দুপুরে সাড়ে ১২টা থেকে সিরিয়াল শুরু হয় এখানে। দূর থেকেই দেখা যায় কয়েকশ’ রিকশা মেহমানখানার সামনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানো। খাবারের হাড়ি নিয়ে বসে থাকেন মেহমানখানার কর্মচারী। একে একে প্লেটে করে দেন খাবার। মেহমানখানায় আসা মানুষ ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও এ খাবার খান।
নারীর সংখ্যাও কম নয়। বাচ্চাকাচ্চা নিয়েও কয়েকজন এসেছে। ভরপেট আয়োজন। কোনো কমতি নেই। যত খুশি ততবার নেয়া যায় খিচুরি। মেহমানখানায় কোনো মেহমানকেই আধপেটা থাকতে হবে না। আগেই শুনেছিলাম তবু খেয়াল করে দেখা গেল অনেকেই টিফিন বক্স, হাঁড়ি, বাটি, ছোট বালতি নিয়ে এসেছেন। কারণ তারা খেয়ে নিয়ে যাবেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য। কতটা পরিমাণ পার্সেল দেয়া হয় জানতে চাইলে বিতরণকারীরা বললেন- যার পাত্রে যতটা ধরে!
এখানে প্রতিদিন মূলত পাতলা খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। খিচুড়ির মধ্যে মুরগি এবং সবজিও থাকে। মেহমানখানায় গেলে দেখা যায় দুপুরে তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছেন সবাই। স্বাদ এবং মানের কথা বেশ ভালো বলে জানান অতিথিরা। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় কঠোর তদারকিতে বাজার থেকে শুরু করে রান্না এবং খাবার বিতরণ সবই সম্পন্ন করা হয়। প্রচারণা নয়, বরং একবেলা মানুষকে তৃপ্তি করে খাওয়ানোই মেহমানখানার মূল লক্ষ্য।
চার পাশ খিচুরির সুগন্ধে ম ম করছিল। বোঝাই যাচ্ছিল যথেষ্ট যত্ন নিয়ে রান্না করা হয়। তবুও কথা হলো কয়েকজন মেহমানের সাথে। খাওয়া শেষে রিকশায় বসেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মনির। বললেন, তিনি হঠাৎই জানতে পারেন এই আয়োজনের কথা। এখন দুপুর হলেই এখানে চলে আসেন। এতে খাবার খরচটা বেঁচে যায়। আর খুবই স্বাদের খিচুড়ি। তার মতো অনেকেই এখন অন্য কোথাও আর খান না এবং তাদের মতো আরো যারা আছেন তাদের মধ্যে যারা জানেন না তাদেরও জানান। এভাবেই কোনো প্রচারণা ছাড়াই শুধু লোকমুখেই দিন দিন বাড়ছে মেহমানখানার প্রসার।
কথা বলেছিলাম এ মেহমানদারি আয়োজনের প্রধান তদারককারী গাজী আহমাদ উল্লাহর সাথে। হেড অব মিডিয়া, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ। কেন এই আয়োজন? তিনি জানালেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে মানবতার সেবার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। মানবসেবার মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বাড়ে। সে চিন্তা থেকেই এ আয়োজন। মানুষকে পেট পুরে খাওয়ানোর মাধ্যমেই তাদের তৃপ্তি।
ভাবনাটা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের হলেও এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই এখন কাজটাকে ভালোবেসে ফেলেছেন। নিজ তাগিদেই তারা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন মেহমানদারি। এ বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে মেহমানদারি। এখনো শুধু লোকমুখেই প্রচার হচ্ছে। কারণটা কী? জানালেন, কর্তৃপক্ষ কোনো রকম প্রচারণা চান না। নেক নিয়তে প্রচারণা ছাড়াই কাজ করতে চান।
কত দিন চলবে এ আয়োজন? সাথে সাথেই উত্তর দিলেন আল্লাহ যত দিন সামর্থ্য দেবেন। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার মেহমান খাচ্ছেন। চাইলে আপনিও যে কোনো দিন হতে পারেন মেহমান। আপনাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানাতে ভুলবে না মেহমানখানার লোকেরা।

ইত্যাদির সেই সিডরম্যান’ খ্যাত জয়দেবের পচা গলা মরদেহ উদ্ধার


সিডরম্যান’ খ্যাত বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় বগী ইউনিয়নের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ইউনিট প্রধান ও ওয়্যারলেস অপারেটর জয়দেব দত্তের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা ১১টার দিকে তালতলীর বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের সিপিসির ওয়্যারলেস অপারেটর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।
বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলম মুন্সি বলেন, সকালে ইউনিয়ন পরিষদে আসা সাধারণ মানুষ পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ভেতর থেকে বন্ধ দরজা ভেঙে জয়দেবের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ওসি আরও বলেন, মরদেহ দেখে মনে হয়েছে দু’তিনদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিখোঁজ থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তা পুলিশকে অবহিত করা হয়নি।
প্রসংঙ্গত, ২০০৭ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় তালতলীর নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগাম সতর্কতা সংকেত প্রচার করে শত শত মানুষের জীবন রক্ষা করেছিলেন জয়দেব দত্ত। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন তিনি। পরে জনপ্রিয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় ইত্যাদির পক্ষ থেকে তাকে ‘সিডরম্যান’ উপাধি দেয়া হয়।