Subscribe:

জেনে নিন সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামীদের তালিকা


ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা অভিনেতা সালমান শাহ। মৃত্যুর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও রহস্য ভেদ হয়নি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, এটি কখনও মেনে নেননি সালমানের পরিবার ও ভক্তরা। তাদের দাবি সালমানকে খুন করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাবেয়া সুলতানা রুবি নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি ভিডিওবার্তায় বলেছেন ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে খুন করা হয়েছে’। সালমানের মৃত্যুর রহস্য জানিয়ে এই ভিডিওবার্তায় ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সালমান শাহ হত্যা মামলা।
এক নজরে জেনে নিন সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামীদের তালিকা-
১। স্ত্রী সামিরা হক
২। শাশুড়ি লাতিফা হক লুসি
৩। আজিজ মোহম্মদ ভাই
৪। রেজভী আহমেদ ফরহাদ
৫। খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন
৬। নজরুল শেখ
৭। ডেভিড
৮। রাবেয়া সুলতানা রুবি
৯। মোস্তাক ওয়াইজ
১০। গৃহকর্মী আবুল হোসেন খান

দেখে নিন বাংলাদেশী সিনেমার ইতিহাসে সেরা আট ব্যবসাসফল ছবি যার মধ্যে সালমানের একাই ৩টি


বিগত দশকগুলোতে বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ড্রাস্টি ধুঁকতে থাকলেও সম্প্রতি আয়নাবাজি, শিকারী, অগ্নি সহ কিছু বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রের হাত ধরে আবারো জেগে উঠছে বাংলা সিনেমা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেট এবং ক্যাবল টিভির কল্যাণে হলিউডে বা বলিউডে কোন সিনেমা কত আয় করেছে, কোন সিনেমা সব রেকর্ড ভঙ্গ করে দিচ্ছে- এগুলার খোঁজখবর পাওয়া আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
চলুন আজ জেনে নেয়া যাক সবচেয়ে আলোচিত কিছু চলচ্চিত্রের নাম-
বেদের মেয়ে জোসনা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। ১৯৮৯ সালে তোজাম্মেল হক বাবুল পরিচালিত ছবিটি মোট ১,২০০টি হলে মুক্তি পেয়েছিলো। ইলিয়াস কাঞ্চন এবং অঞ্জু ঘোষ অভিনীত এই সিনেমার ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে’ শিরোনামের গানটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ছবিটি এতই জনপ্রিয়তা পায় যে, পরবর্তীতে এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুননির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়। মোট ২০ লাখ টাকা নির্মাণ ব্যয়ের বিপরীতে ছবিটি আয় করেছিলো মোট ২০ কোটি টাকা। ব্যাপক চাহিদায় ঢাকা সহ সারাদেশে মুক্তি দেওয়ার পর সিনেমাটি বেশ আলোড়ন তোলে দেশজুড়ে।
স্বপ্নের ঠিকানা
‘বেদের মেয়ে জোসনা’র পর সালমান শাহ ৯২-৯৭ এই সময়ে অনেক হিট চলচ্চিত্র উপহার দিলেও এর রেকর্ড ভাঙতে পারেনি, তার অভিনীত স্বপ্নের ঠিকানা (১৯৯৫) সব চেয়ে কাছাকাছি গিয়ে ১৯ কোটি টাকা আয় করে।
সত্যের মৃত্যু নেই
সেরা ব্যবসাসফল তালিকায় তিন নাম্বারে থাকা চলচ্চিত্রটিও সালমান শাহ অভিনীত। ১৯৯৬ সালে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ সিনেমাটি। ছবিটির ‘চিঠি এলো জেলখানাতে অনেক দিনের পর’ গানটি সারাদেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে ১০ কোটির বেশি আয় করা সিনেমার মধ্যে এটিই সর্বশেষ সিনেমা যেটি ১০ কোটির গন্ডি পেরোতে পেরেছিলো।
কেয়ামত থেকে কেয়ামত
সেরা দশের তালিকায় থাকা এটি সালমান শাহের তৃতীয় সিনেমা। এই সিনেমাটি মূলত আমির খান-জুহি চাওলা জুটির সুপারহিট হিন্দি ছবি ‘কেয়ামাত সে কেয়ামাত তাক’ এর অফিশিয়াল রিমেক। ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির পরিচালক ছিলেন সোহানুর রহমান সোহান। এই সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ এবং মৌসুমী চলচ্চিত্র জগতে তাদের যাত্রা শুরু করেন।
এই সিনেমাটি নাকি ইমনের (সালমান শাহ ) এতই প্রিয় ছিলো যে, মোট ২৬ বার সিনেমাটি দেখেছেন বলে পরিচালকে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিচালক রাজি হয়ে যান এবং ইমনের নাম পরিবর্তন করে সালমান শাহ রাখা হয়। একই সিনেমার মাধ্যমে অভিষেক হয় আরেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আগুনের। ‘বাবা বলেছে ছেলে নাম করবে’, ‘ও আমার বন্ধু গো’, ‘এখন তো সময়’ শিরোনামের গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো সে সময়ে। এই সিনেমা মোট আয় করেছিলো ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
মনপুরা
অশ্লীলতা এবং কুরুচিপূর্ণ সিনেমার আগ্রাসনে ডুবে যেতে বসেছিলো বাংলা চলচ্চিত্র জগত। ২০০৯ সালে সেই অন্ধকার যুগে আলোর দিশারী হয়েই এসেছিলো গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ সিনেমাটি। মুক্তি পাওয়ার পর সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচকদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলো মনপুরা। গ্রামবাংলার পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন টিভি অভিনয় শিল্পী ফারহানা মিলি এবং চঞ্চল চৌধুরী।
সিনেমাটির সংগীতায়োজনের দায়িত্বে ছিলেন তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় শিল্পী অর্ণব। ‘নিধুয়া পাথারে’, ‘যাও পাখি বলো তারে’, ‘আগে যদি জানতাম রে বন্ধু’ সহ এই সিনেমার গানগুলো ঠাঁই পেয়েছিলো মানুষের মুখে মুখে। মনপুরা ছবিটি ২০০৯ সালে শ্রেষ্ট চলচ্চিত্রসহ মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রের মোট আয় ছিলো ৮ কোটি টাকা।
স্বামী কেনো আসামী
মনোয়ার খোকন পরিচালিত স্বামী কেনো আসামী ছবিটি আছে এ তালিকার ৬ নম্বরে। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। ছবিটি মোট আয় করে ৭ কোটি টাকার বেশি।
কুলি
১৯৯৭ সালে ১৬ মে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় ‘কুলি’ সিনেমাটি। হিন্দি ছবি ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’ এর ছায়া অবলম্বনে এই সিনেমাটি বানিয়েছিলেন মনতাজুর রহমান আকবর। ‘কুলি’র প্রধান কিছু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ওমর সানী, পপি, হুমায়ুন ফরিদী এবং আমিন খান।
এই সিনেমার মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। সিনেমাটির মোট আয় ছিলো ৭ কোটি টাকা।
আয়নাবাজি
২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া অমিতাভ রেজা পরিচালিত আয়নাবাজি সিনেমাটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে তুমুল সাড়া জাগিয়েছিলো। থ্রিলারধর্মী এই সিনেমাতে মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা এবং পার্থ বড়ুয়া। চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালের ১৭ মে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে মুক্তি দেয়া হয়। তাছাড়া সে বছরেই নভেম্বরের ১২ থেকে ১৫ তারিখে মানহেইম-হেইডেলবার্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি মোট ৪ বার প্রদর্শিত হয়। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের জন্য মোট ৬টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হলেও সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী এই ৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে এই সিনেমাটি। আয়নাবাজির মোট আয় ৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা।

কোরবানি ঈদের ছুটি হচ্ছে ৬ দিন


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর আসছে। এখন থেকে ঈদের ছুটি ছয় দিন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আসন্ন ঈদুল আজহা থেকে এটি কার্যকর হবে। বর্তমানে ঈদে সরকারি কর্মচারীরা ছুটি পান তিন দিন। চাকরিজীবীদের ঈদে স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে ছুটি বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন পেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সরকারি একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এবার ঈদের ছুটি শুরু হবে ৩০ আগস্ট বুধবার থেকে এবং শেষ হবে ৪ সেপ্টেম্বর সোমবার। যদিও এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি ঈদের ছুটি হিসেবে কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা এবার ঈদের ছুটি পাবেন ছয় দিন। আর এ ছয় দিন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আর ঈদের এ বাড়তি ছুটি কর্মচারীদের ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ঈদে ছুটি বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসার পরই এটি সর্বোচ্চ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। এখানে অনুমোদন পেলে ছুটির আদেশ জারি হবে। না হলে বিদ্যমান নিয়মে ছুটি থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে বছরের নির্ধারিত ছুটি ঠিকই থাকবে। বাড়তি ছুটি কর্মচারীদের ঐচ্ছিক ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হবে। অর্থাৎ শুধু ঐচ্ছিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটির সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সব ঠিকঠাক থাকলে এবার ঈদুল আজহা পালন হবে ২ সেপ্টেম্বর শনিবার। ঈদের দিন ও তার আগের দিন পড়ছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে বিদ্যমান নিয়মে এবার তিন দিন ঈদের ছুটি থাকলে এর দু’দিনই পড়ছে সাপ্তাহিক ছুটি। বাড়তি কোনো ছুটি পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। চাকরিজীবীরা বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বাড়ির দিকে রওনা হবেন। আবার সোমবার অফিস খোলা থাকায় ঈদের পরের দিন রোববার ঢাকামুখী হবেন। এতে একসঙ্গে রাস্তাঘাটা, ফেরি, লঞ্চ, রেলের ওপর চাপ বাড়বে। মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এমনকি গ্রামের সড়কও বেহাল। তারপর এত চাপ মোকাবেলা করা প্রশাসনের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ারও আশঙ্কা থাকছে। ফলে চাকরিজীবীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি পেঁৗছতে ঈদের ছুটি বাড়ানো হচ্ছে।
জানা গেছে, ঈদে ছুটি বাড়ানোর দাবি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে ঈদুল ফিতরে সরকারি ছুটি তিন দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিন করার একটি প্রস্তাব দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও পরে এটি নাকচ হয়ে যায়। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিও ছয় দিন করার একটি প্রস্তাব তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে সম্মতি দেন; কিন্তু ওই সময় সংসদে বাজেট অধিবেশন থাকায় ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব আর কার্যকর হয়নি। এবার সরকারি কর্মচারীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে এবং ঈদে যাতে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন এ জন্য ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বছরে অফিস-আদালত ১৫৯ দিন বন্ধ থাকে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে ১০৪ দিন। অন্যান্য ছুটি থাকে ৫৫ দিন। খবর সমকাল।