Subscribe:

আমি আসলেই পল্টিবাজ, আপনারা আমাকে কিছুই করতে পারবেন না : রুবি


মানুষ যে কতটা নিচে নামতে পারে রাবেয়া সুলতানা রুবিকে দেখলে তা বোঝা যায়। জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ মৃত্যুরহস্য নিয়ে দেওয়া তার ভিডিও বার্তায় ‘সালমানকে হত্যা করা হয়েছে’ দাবী থেকে পুরোপুরি পল্টি মেরে এখন নিজেকে অসুস্থ বলে দাবী করছেন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র খুনের সাক্ষী দাবি করা রুবি সুলতানা বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ৬ টায় ফেসবুক লাইভে এসে এসব উল্টো কথা বলেন। তা শোনার পর ক্ষুব্ধ পুরো বাংলাদেশের মানুষ।
রুবি বলেন, ‘আমি গেলো দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ছিলাম। আমি যা কিছু বলেছি তার কোনো মূল্য নাই। আমি যে অসুস্থ ছিলাম বাসায় গিয়ে সেই কাজগপত্র পৌঁছে

দেবো। আমার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে এখানে একা থাকি তো ভাই, বোন কেউ নাই।’
তিনি বলেন, ‘আত্মীয় স্বজন কেউ নাই তাই কিছুটা মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। আজ সকালে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারলাম যে তারা খুব কষ্ট পাচ্ছে। আমার বড় ছেলে এক মাসের জন্য হাসপাতালে যাবার জন্য বলেছে।’
এ সময় নিজেকে অসুস্থ পাগল বলেন রুবি। সামিরা ও অন্যান্য যাদের নাম তিনি বলেছিলেন, এসব মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি। কারণ মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার ফলে নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে জানান রুবি।
রুবির হঠাৎ এরূপ মন্তব্য ক্ষোভে ফেটে পড়েন ফেসবুকে লাইভ দেখা মানুষজন। তারা রুবিকে ইচ্ছা মতো গালাগালি করতে থাকেন। কেউ কেউ বলেছেন আপনি যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে ঠিকঠাকভাবে ফেসবুক লাইভে কথা বললেন কীভাবে। অনেকে আবার তাকে মারতেও চান।
তবে ওই সব মন্তব্য তোয়াক্কা না করে রুবি বলেন, আমি বাংলাদেশের না আমেরিকার নাগরিক। আমার বাসার পাশেই থানা। আমাকে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না। আমি আসলেই পল্টিবাজ। আপনারা যাই বলেন না কেন তাতে কিছুই আসে যায় না।
একাকীত্বে থাকার কারণেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে এমনটা করেছেন বলে জানান রুবি। সালমান খুন হয়েছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন তার কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরীর করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী এই রুবি।

রুবিকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ পিবিআই’র… ।।


পিবিআই’র ডিআইজি বজন কুমার মজুমদার বলেন, ‘রুবির সাথে আমাদের যোগাযোগ এরিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি যে ভিডিওটি আপলোড করেছেন, আমরা আইওকে বলে দিয়েছি যেনো আদালতের কাছে প্রার্থনা করবো এই ভিডিওটি নথিতে সংযুক্ত হয়। সে (রুবি) কিভাবে আসতে চায়। সে তো নিজে থেকে বলছে, সেই রুবি। সে যদি আসল রুবি হয় তাহলে ইন্টারপোল হোক, পুলিশ হেডকোয়ার্টার হোক বা মন্ত্রণায়, আমরা দেখবো কিভাবে তাকে আনা যায়।’
এছাড়া মামলার মূল অভিযুক্ত সামিরা ও ঐ সময়ে বাসার গৃহকর্মীসহ সবাইকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নায়ক সালমান শাহকে হত্যা করাও হতে পারে আবার তিনি আত্মহত্যাও করে থাকতে পারেন বলে নতুন তথ্য দিয়েছেন মামলার আসামি আলোচিত রুবি সুলতানা। বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন আরেকটি ফেসবুকে লাইভে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে এ মামলার অন্যতম আসামি রুবি সুলতানার ভিডিও বার্তা প্রমাণ হিসেবে আদালতে মামলার নথিতে সংযুক্ত করার আবেদন করা হবে বলে জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর ডিআইজি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী ও তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে রুবিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
থার্টিফাইভ মিলিমিটার রঙিন সিনেমার প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ’এর মৃত্যু নিয়ে কয়েকদিন ধরেই সরগরম দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মূল ধারার গণমাধ্যমও। মূলত সালমান শাহ’ ব্যক্তিগত বিউটিশিয়ান রাবেয়া সুলতানা রুবির একটি ভিডিও বার্তাই বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
যেখানে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে খুন করা হয়েছে।
প্রথম ভিডিও বার্তায় সালমানকে হত্যা করার কথা বললেও বুধবার সকালে আরেকটি ভিডিওতে সেখান থেকে অনেকটাই সরে আসেন আলোচিত রুবি। তবে ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, সালমান-সামিরার দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না।
দ্বিতীয় রুবি বলেন, ‘ভিটিওটি পোস্ট করেছি ভাইরালের জন্য না। জাস্ট নিলা ভাবিকে (সালমানের মা) খরটা জানানো জন্য যে, এটা আত্মহত্যা নাও হতে পারে, এটা খুন হতে পারে। আমরা মুখ দিয়ে অন্য কথা বের হয়ে গেছে। যদি এফবিআই, সিআইডি নিয়ে আসেন, কথা বলবো। বাঙালির সাথে কথা বলবো না। বাঙালি যদি কথা বুঝতো তাহলে ২১ বছর এটা ঝুলে থাকতো না।’
সালমান শাহ এর মা নীলা চৌধুরীর দাবি, সালমানের মৃত্যুর পরপরই তার ঘরে যেসব আলামত পাওয়া গেছে তাতেই প্রমাণ হয় সালামান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, সালমানের জীবনে তখন এমন কিছুই ঘটেনি যাতে তাকে আত্মহত্যা করতে হবে।
সালমানের মা বলেন, ‘যেদিন মারা গেলো সেদিনও সে শুটিং করে গেছে। তার টেবিলের উপর আমি কন্টিনিউটি ড্রেসের ফটো পেয়েছি। তার ড্রেস পেয়েসি রেডি করা। এক জন মানুষ আত্মহত্যা করতে হলে ড্রেস রেডি করে, সব রেডি করে আত্ম হত্যা করবে না।’
চিত্র নায়িকা মুনমুন বলেন, ‘তখন তিনি বাংলাদেশের সেরা সুপারস্টার ছিলেন। তার ছবি মানেই সুপারহিট। মানুষ তো ফ্রাস্ট্রেশনে ভুগেই আত্মহত্যা করে। কিন্তু ওইরকম কোন পরিস্থিতি আমি দেখতে পাইনা। আত্মহত্যাটা হঠাৎ কেন হবে। এটাই সবার মনে প্রশ্ন।’
পরিবারের দাবি অনুযায়ী রুবিকে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি তার ভিডিও বার্তাটিও তদন্তের স্বার্থে মামলার নথিতে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন আমি কেমন : সালমানের শ্বশুর


রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের এক আমেরিকা প্রবাসী অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা ছেড়ে তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারই স্বামী। চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিল সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।
তবে এসব তথ্যকে অবান্তর বলে দাবি করলেন সামিরার বাবা ও সালমানের শ্বশুর শফিকুল হক হীরা। তিনি ভিডিও প্রকাশকারী রুবিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও দাবি অভিহিত করলেন। সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, ‌ভিডিওটি আমিও দেখেছি। এটা খুবই হাস্যকর লেগেছে আমার কাছে।’
শফিকুল হক হীরা নিজের পরিবারকে নির্দোষ দাবি করে আরো বলেন, আমি বা আমার পরিবার যদি মেয়ের জামাই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতাম তবে যে বছর সালমান মারা গেল সেই বছরই সাবের হোসেন চৌধুরী আমাকে সরকারিভাবে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পুরস্কৃত করতেন না। আমিও সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আজ অবধি জড়িত থাকতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন আমি কেমন। এই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমার কী অবদান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সালমানের মা নিজেও গিয়েছিলেন ছেলে হত্যার শাস্তি চাইতে। কিছু হয়েছে? হয়নি। কারণ, একটা আত্মহত্যাকে জোর করে হত্যা বলে প্রমাণ করা যায় না। আর প্রধানমন্ত্রী জানতেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী কেমন। স্বৈরশাসক এরশাদের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন নীলুফার চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী সেই কথা কারো অজানা নয়।’
সালমানের মা প্রসঙ্গে এই প্রবীন ক্রিকেটার আরো বলেন, সালমানের বাবা ছিলো আমার ক্লাসমেট। খুব ভালো বন্ধু ছিলো আমার। ও ছিলো ফার্স্টক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেট।
ছেলের মৃত্যু নিয়ে তার খুব আপসেট ছিলো। আমরা একে অপরকে শান্তনা দিয়েছিলাম। সে চেষ্টা করেছিলো সালমানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে। কিন্তু পারেনি তার স্ত্রীর জন্য। সালমানের মা নীলা চৌধুরীর স্বভাব-চরিত্র নিয়ে সেইসময় অনেক সমালোচনা হতো সবখানে। সালমান খুনের সঙ্গে তার মায়ের নামেই চলে আসছিলো। নিজের সমালোচনার জন্যই নীলা চৌধুরী ছেলের খুনের মামলা করেও খুব একটা গুরুত্ব পাননি।
এই ক্রীড়া সংগঠক বলেন, আমার স্ত্রী বর্তমানে চীন ও আমেরিকায় নানা রকম ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছে। আমার মেয়ে সামিরাকে আমরা দ্বিতীয়বার ভালো ঘরের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। সেই সংসারে সুখে আছে সে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি কম ক্ষুন্ন হয়নি। এই সময়ে এসে এইসব বাতিল বিতর্কে আমি আর কান দিতে চাই না। পাগলে অনেক কিছুই বলবে। তাতে কী আসে যায়।
তিনি আরো বলেন, আমি জেনেছি রুবি তার স্বামীর সঙ্গে নেই। ওদের ডিভোর্স হয়েছে। শেষ বয়সে অর্থকড়ির ঝামেলায় আছে হয়তো। কারণ ডিভোর্সের সময় স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারেনি, তার ও পুত্রের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এজন্য মাথা হয়তো বিগড়ে গেছে। কিন্তু তার দায় তো দেশ ও জাতি নেবে না। রুবি নিঃস্ব অবস্থায় আছে। তাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যা খুশি তাই করছে। হতে পারে সালমানের মা ওকে টাকার লোভ দেখিয়ে থাকতে পারে। সেজন্যই একটা পুরনো ইস্যুকে নতুন করে রঙ মাখিয়ে হাজির করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক হীরা বলেন, রুবি নিজেই তো এই মামলার আসামি। ঘটনার শুরু থেকেই সে সমালোচিত সালমান খুনের সঙ্গে। কিন্তু বরাবরই সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছে। সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করে সালমানের মাকে কটাক্ষ করেছে। তবে নতুন করে কেন সে এসব মিথ্যাচার করছে সেটা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন।
ভিডিওতে সামিরা ও তার পরিবার সালমান খুনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে রুবি। এ প্রসঙ্গে হীরা বলেন, এটাকে পাত্তা দেয়ার মতো কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমার মেয়ে বা আমার পরিবার এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ, বহু আগেই আদালত এটা প্রমাণ করেছেন যে সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছিল। সুতারাং খুনের প্রসঙ্গই আসে না। রুবি হয়তো কোনো কারণে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছে আমাদের।
তিনি বলেন, সালমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সালমানের মা অকারণেই আমার মেয়ে ও পরিবারকে অপমান করার চেষ্টা করেছে। আদৌ এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এটা প্রমাণিত। আমাদের কাছের মানুষ যারা তারা সবাই জানেন যে সালমান প্রচণ্ড ভালোবাসতো সামিরাকে। সে সামিরার সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিল বরাবরই। তারই সামনে ১৯৯৫ সালে শাহরুখ খান সামিরাকে বলিউডে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। সে আমার মেয়েকে নিয়ে গর্ব করত।
হীরা বলেন, আমরাও সালমানকে প্রচণ্ড আদর করতাম। কারণ ও শুধু আমাদের জামাই ছিলো না, সালমান ছিলো আমার বন্ধুর পুত্র এবং আমার স্ত্রীর বান্ধবীর পুত্র। ও তখন অনেক জনপ্রিয় নায়ক হলেও খুব বেশি টাকা কিন্তু আয় করতো না। আমাকে প্রায় সময়ই চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চাশ হাজার করে, এক লাখ করে টাকা পাঠাতে হতো। আমি পাঠাতামও সন্তান মনে করেই। কেন সে আত্মহত্যা করলো সেটা অজানাই এবং আফসোসের। তবে আমার মেয়ে ও আমার পরিবার থেকে কোনোদিন ভালোবাসার কমতি ছিলো না সালমানের জন্য।